নোয়াখালীতে বিদেশগামীদের সঙ্গে এ কেমন প্রতারণা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদেশগামীদের সঙ্গে প্রতারণা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনিয়ম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকাল থেকে জেলার বিভিন্নস্থান থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আসা শতাধিক প্রার্থীর সঙ্গে এ প্রতারণা ও অনিয়ম করা হয়।

কোরিয়াগামীরা জানান, বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার থেকে কোরিয়ার ভাষা শেখার প্রশিক্ষণ শেষ করে তারা পর্যায়ক্রমে লটারির মাধ্যমে ভাষা ও স্কিল বিষয়ক পরীক্ষা দেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে পরীক্ষাসমূহের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে নোয়াখালীর দুই শতাধিক যুবক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। উত্তীর্ণ এসব যুবক আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা স্ব স্ব জেলার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সার্টিফিকেট জমা দিলে তাদের ভিসা প্রসেসিং শুরু করে।

কিন্তু রবিবার নোয়াখালীর শতাধিক বিদেশগামী সদর হাসপাতালে গেলে সেখানে তাদের কোনো পরীক্ষা না করিয়ে স্থানীয় গ্রামীণ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয় তাদেরকে। সেখানে ৫ হাজার টাকা দিয়ে তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছে। আবার নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্টও পাচ্ছে না। এতে একদিকে অতিরিক্ত অর্থ গোনাসহ রিপোর্ট পেতেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী বিদেশেগামী যুবকরা সরকারি হাসপাতালের এ অনিয়ম দেখে দুদক অফিসেও ফোন করে জানায়।

Noakhali-Hospital--Cheating-Pic

দুদক সমন্বিত নোয়াখালী জেলার সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান জানান, তারা জেনারেল হাসপাতালের এ অনিয়মের খবর পেয়ে ছুটে যান এবং গ্রামীন নামে বেসরকারি হাসপাতালে গেলে অবশ্য তাদের উপস্থিতি দেখে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বিদেশগামীদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবাদ ৫ হাজার টাকার স্থলে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিতে রাজি হন।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. বিধান চন্দ্র সেন গুপ্ত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বিদেশেগামীদের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন।

তিনি বলেন, সুপারেন্টেন্ডকে অবহিত করেছি। হাসপাতালটি দালালমুক্ত হয়নি। এক শ্রেণির চিকিৎসক ও দালাল মিলে এ সকল কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে।

মিজানুর রহমান/এমএএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :