হিলি সীমান্ত দিয়ে শিং ও পাবদা মাছের পোনা পাচার বাড়ছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশীয় শিং ও পাবদা মাছের পোনা পাচার বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবারও পাচারের সময় ১৫ কেজি শিং মাছের পোনা আটক করেছে বিজিবি। গত পাঁচ মাসে ৮টি অভিযানে এ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ২৩৯ কেজি শিং ও পাবদা মাছের পোনা আটক করা হয়েছে।

ভারতে বাংলাদেশের পোনার ব্যাপক চাহিদা থাকা ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে পোনা রফতানির সুযোগ না থাকা এবং ভারতে এসব মাছের ভালো পোনা উৎপাদনা না হওয়ার কারণে পাচার হচ্ছে এই তিন জাতের পোনা। মাছের পোনা পাচার বেড়ে যাওয়ায় বিজিবি সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে।

বিজিবি হিলির মংলা বিওপি ও বাসুদেবপুর ক্যাম্প সূত্র জানায়, ১১ মার্চ পাচারের সময় শিং মাছের ৩০ হাজার পোনা জব্দ করেন হিলির বাসুদেবপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। ২৬ এপ্রিল শিং মাছের ১৫ হাজার পোনা জব্দ করেন মংলা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। ৩১ জুলাই পাবদা মাছের ২৫ হাজার পোনা জব্দ করেন বাসুদেবপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। ১৮ ও ২৩ আগস্ট শিং মাছের ১৩৮ কেজি পোনা জব্দ করেন বাসুদেবপুর ও মংলা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। একইভাবে ১৪ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ৭১ কেজি শিং মাছের পোনা জব্দ করেন বাসুদেবপুর ও মংলা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোরে বাসুদেবপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা ১৫ কেজি শিং মাছের পোনা আটক করেন।

হিলির মাছ চাষি ও ব্যবসায়ী সুরমা মৎস্য আড়তের মালিক জাহিদুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে শিং, পাবদা ও পাঙ্গাস মাছের রেনু, ডিম ও পোনার উৎপাদন ভালো। পক্ষান্তরে ভারতের মৎস্য সংশ্লিষ্টরা অনেক চেষ্টা করেও তাদের দেশের পুকুরে শিং, পাবদা ও পাঙ্গাস মাছের পোনা উৎপাদন করতে পারছেন না। এ কারণে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের শিং, পাবদা ও পাঙ্গাসের পোনার চাহিদা ব্যাপক। এ ছাড়া বাংলাদেশের বাজারে এসব মাছের পোনার যে দাম তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম ভারতে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে এক লাখ শিং মাছের পোনার দাম প্রকারভেদে যেখানে ৭০-৭৫ হাজার টাকা, সেখানে ভারতে একই পরিমাণ মাছের পোনার দাম দুই লাখ টাকা। আবার পাবদা মাছের একলাখ পোনার দাম বাংলাদেশে ৬০-৬৫ হাজার টাকা, যার দাম ভারতে প্রায় দুই লাখ টাকা। এ কারণে সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে শিং ও পাবদা মাছের পোনা পাচার হচ্ছে।

একই কথা জানান হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন। তিনি বলেন, ভারত শিং, পাবদা ও পাঙ্গাস মাছের পোনা উৎপাদন করতে পারে না। এ কারণে সেদেশের বাজারে আমাদের দেশের শিং, পাবদা ও পাঙ্গাসের পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব মাছের পোনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি করা হয় না। ভারতের অভ্যন্তরে কাস্টমসে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদায়ন না থাকাসহ আরও কিছু কারণেই তা রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পোনা পাচারের কারণে সরকার যেমন রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তেমনি বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের পোনা ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপরে বিজিবি হিলির বাসুদেবপুর কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার জয়েন উদ্দিন বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতে বাংলাদেশের মাছের পোনা পাচার বেড়েছে। আমরা প্রায়ই পোনা আটক করছি। সীমান্তগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :