ইউএনও বললেন আমার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে চলো

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:২০ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ভৈরবে শ্লীলতাহানির ঘটনার পর ভয়ে পরীক্ষা দিতে যায়নি দুই ছাত্রী। গত রোববার এ ঘটনার পর সোমবার ও মঙ্গলবার দুটি ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়নি তারা।

বিষয়টি শুনে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমিন বুধবার সকাল ৯টার দিকে দুই ছাত্রীর বাসায় যান। এ সময় তিনি দুই ছাত্রীকে বলেন, ভয় নেই; আমার সঙ্গে গাড়িতে উঠো- চলো তোমরা পরীক্ষা দেবে।

পরে ইউএনওর কথামতো দুই ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। শনিবার পর্যন্ত ছয়টি পরীক্ষা দিয়েছে তারা। বাকি দুটি পরীক্ষাও দেবে তারা। যে দুটি পরীক্ষায় তারা অংশ নেয়নি সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত দেবেন ইউএনও।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২ ডিসেম্বর) ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ হাইস্কুলের দুই ছাত্রী ফাইনাল পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বখাটেরা উত্ত্যক্ত করে। একপর্যায়ে ছাত্রীদের হাত ধরে টানাটানি করে ওড়না নিয়ে যায়।

এ সময় ছাত্রীরা প্রতিবাদ করলে বখাটেরা ধাওয়া করে। এ ঘটনায় ছাত্রীদের বাবা প্রতিবাদ করলে তাদের বাড়িতে হামলা করে বখাটেরা।

বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানালে স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসে। এ সময় ছাত্রীর অভিভাবকরা উপস্থিত হলেও বখাটের অভিভাবকরা উপস্থিত হয়নি। পরে দুই ছাত্রীর বাবা স্কুল থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার পথে বখাটেরা আবারও হামলা করে। এতে ছাত্রীর বাবাসহ পাঁচজন আহত হয়।

এ ঘটনায় বখাটে ইয়াসিন, এনামুল ও ফরহাদসহ ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ভৈরব থানায় মামলা করেন এক ছাত্রীর মা। এ নিয়ে গত বুধবার মানববন্ধনসহ একটি প্রতিবাদ সভা করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমিন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি শুনে দুই ছাত্রীর বাসায় যাই। তাদের নিরাপত্তা দিয়ে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।

ভৈরব থানা পুলিশের ওসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘটনার পর অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। ঘটনায় জড়িত একজনের সহযোগীকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :