মরদেহ শনাক্তে পিবিআইয়ের মেশিন চায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ
অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত নিয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশকে। কোথাও কোনো মরদেহ উদ্ধার হলে পরিচয় শনাক্তের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই পুলিশের একমাত্র ভরসা! ফেসবুকে অজ্ঞাত মরদেহের ছবি পোস্ট করে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। মাঝে-মধ্যে সে চেষ্টা সফলও হয়।
গত রোববারও (৩ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার একটি রেলওয়ে সেতুর নিচ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীর পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। তাই এবার মরদেহের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশেরই আরেক ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নিজস্ব এক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাইছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।
সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে শিশু হালিমা আক্তার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের কাছে পিবিআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাওয়ার কথা জানান। অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তকরণের জন্য পিবিআই একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে থাকে। একমাত্র পিবিআইয়ের কাছেই রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার মেশিন। যার সাহায্যে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মরদেহের পরিচয় জানা যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, দেশের সব জেলায় পিবিআইয়ের শাখা থাকলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন নেই। শুধুমাত্র পিবিআই ঢাকাতেই সেটি ব্যবহৃত হয়। এ ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিনের মাধ্যমে হাতের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার থেকে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরাও অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইয়ের এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন ব্যবহার করতে চাই। আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি থাকবে জেলা পুলিশের জন্যও যেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন দেয়া হয়। যাতে করে খুব সহজেই যেন অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় জানা যায়।
আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/এমকেএইচ