আদালতে এলেন না মামুনুলের আইনজীবী, অভিযোগ গঠনের আদেশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০২১

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনকালে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না নারায়ণগঞ্জ আদালতে। আইনজীবীর অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত।

বুধবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁ থানার দায়ের করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিসুর রহমানের আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। আগামী ১৪ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অসুস্থ থাকায় মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আজ শুনানি হয়। এক নারীর করা ধর্ষণ মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

মামুনুল হকের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এদিন মামুনুল হকের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ওকালতনামায় একজনের নাম থাকলেও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে আইনজীবীর অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত।’

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সোনারগাঁও থানার একটি ধর্ষণ মামলায় গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগে মামুনুল হকই একমাত্র আসামি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে চার্জ গঠন হয়েছে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে মামুনুলকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে আবার কাশিমপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামুনুল হক গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে ঘেরাও করেন। পরে ওই রিসোর্টে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী-সমর্থকরা এসে ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান। তারা গাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ, আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এসময় এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও সাংবাদিক বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। তার কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরও তিনটি মামলা করেন। ছয়টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক।

এরপর গত ৩০ এপ্রিল সকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন ওই নারী। মামুনুল হকের দাবি, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

শ্রাবণ/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।