নারায়ণগঞ্জ থেকে ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন যাত্রা
ঈদের আর মাত্র দুদিন বাকি। আর এ ঈদকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বিকেল থেকে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে স্থল-জল-রেলপথে রয়েছে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়।
তেমনিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নারায়ণগঞ্জ রেলপথে ট্রেনের ছাদে বসে অথবা দুই বগির মাঝে বসে কিংবা দরজায় ঝুলে বাড়ির দিকে ছুটতে শুরু করেছেন সাধারণ কর্মজীবীরা। সেইসঙ্গে ট্রেনের ভেতরে গাদাগাদি তো রয়েছেই।
এদিন রাত ৯টায় শহরের চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। স্টেশনের কর্মকর্তারা নিষেধ করলেও কে শোনে কার কথা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই যে যেভাবে পারছেন বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটছেন।
নারায়ণগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইলে যাবেন সাজন। তিনি শহরের নয়ামাটি এলাকার হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করেন। সাজন বলেন, প্রথমে ট্রেনে করে কমলাপুর যাবো। তারপর সেখান থেকে টাঙ্গাইলের বাসে উঠবো। যার কারণে সন্ধ্যা ৮টা থেকে স্টেশনে এসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি।
ফতুল্লা বিসিক শিল্প এলাকার একটি কারখানায় কাজ করেন তাইজুল। তিনি বলেন, আমি ঢাকার ফার্মগেট থেকে ময়মনসিংহের বাসে উঠবো। তাই দুর্ভোগ লাঘবে ট্রেনে করে কমলাপুর যাবো। কিন্তু এখানেও এসে দেখি যাত্রীদের অনেক চাপ। কি আর করা। এ যাত্রীর চাপ উপেক্ষা করেই কমলাপুর যেতে হবে।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিনাজপুর যাবে সুজন হাওলাদার। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে নারায়ণগঞ্জে রয়েছেন। তিনি বলেন, অফিস আজকেই ছুটি দিয়েছে। তাই আজকেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে দিনাজপুরের দিকে রওয়ানা দিয়েছি। যত কষ্টই হোক না কেন বাড়ি যাওয়াটাই আনন্দের বিষয়।
নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার এসএম খাজা সুজন জাগো নিউজকে বলেন, আজ বিকেলে থেকেই ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। যার কারণে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ বেশি। যেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ যাত্রী হয় সেখানে শুধু রাতেই এক হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়েই বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নিষেধ করছি কোনো রকমের ঝুঁকি না নেওয়ার জন্য। কিন্তু কে কার শোনে। যে যেভাবেই পারছেন ছুটছেন। আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে কোনো রকমের দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য চালকদের সতর্ক থাকার কথা বলছি।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমএএইচ/