পাসপোর্ট নবায়ন করতে এসে মার খেলেন সেবাপ্রার্থী
রাজবাড়ীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন তানভির আহম্মেদ জয় (৩৫) নামে এক যুবক। বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী তানভির আহম্মেদ জয় রাজবাড়ীর পাংশা যশাই ইউনিয়নের চর দুর্লভদিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, দুপুরে অফিসের মধ্যে অনেক ভিড় ছিল। সেসময় সিরিয়াল ভেঙে কাজ করতে গেলে এক ব্যক্তির সঙ্গে ও এক যুবকের বাকবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন অফিসের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতে গেলে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য তাদের বাধা দেন। আনসার সদস্য তাদের কাছে ভেতরে ঢোকার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, ভেতরে দরকার আছে। এরপর একজন ভেতরে ঢুকে ওই যুবককে অফিসের বাইরে নিয়ে ৬/৭ জন মিলে মারধর করেন। ওই সময় সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রকিবুল হাসান পিয়াল পাশেই ছিলেন। এবং তিনি তাদের কাছ থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে ফের পাসপোর্ট অফিসে ফেরত পাঠান।
ভুক্তভোগী তানভির আহম্মেদ জয় জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশার যশাইতে। পাসপোর্ট নবায়ন করতে এসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, সকাল থেকে অন্য সবার মতো তিনিও সিরিয়ালে দাঁড়ান। হঠাৎ দুপুরের দিকে এক ব্যক্তি সিরিয়ালে না দাঁড়িয়ে কাউন্টার থেকে সেবা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করেন তানভির। পরে তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে গিয়ে ৫/৬ জন মিলে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। ওই সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করায় তিনি বেঁচে যান।
ঘটনাস্থলে থাকা রাজবাড়ী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান পিয়াল জানান, অসুস্থ বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আলাদীপুর পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে মার্কেটের সামনে চা পান করছিলেন। হঠাৎ সে সময় তিনি দেখেন, এক যুবকের কলার ধরে মারতে মারতে নিয়ে আসছেন কয়েকজন। তখন তিনি তাদের থেকে যুবককে উদ্ধার করেন।
ভাইস চেয়ারম্যান রাকিবুল বলেন, পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে সিরিয়াল নিয়ে হয়তো তাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু ছোট একটি বিষয় নিয়ে এভাবে কাউকে মারধর করা ঠিক না। তারা হয়তো সেখানকার দালাল হবে।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করে রাজবাড়ীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক প্রবীর বড়ূয়া দাবি করেন, তার অফিস বা কম্পাউন্ডের মধ্যে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া কেউ কোনো অভিযোগও করেননি। যেসব গ্রহীতারা আসেন তাদের সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে দেখা হবে।
রুবেলুর রহমান/এমআরআর/এএসএম