গোয়ালন্দ হাসপাতালে সিজার শুরু, ‘রাসেল’ নাম পেল নবজাতক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

দীর্ঘ এক যুগ পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. আমিরুল হকের নেতৃত্বে সফলভাবে সিজারিয়ান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

এ সময় রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের কাচরন্দ এলাকার শারমিন আক্তার ও আমানত মোল্লা দম্পতির ঘরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে ছেলেসন্তান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর দিন জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম শাহাদত হোসেন রাসেল রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আমিরুল হক।

তিনি বলেন, সব সরঞ্জাম থাকার পরও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। বর্তমানে গাইনি সার্জারি চিকিৎসক এবং অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক যোগদান করেছে। ফলে দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর সফলভাবে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সৈয়দ আমিরুল হক আরও বলেন, মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ আছেন। শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ রাসেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে শাহাদত হোসেন রাসেল। এখন এখানে নিয়মিত সিজারিয়ান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

Rasel-(2)

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহিম টিটনের সার্বিক সহযোগিতায় ডা. সৈয়দ আমিরুল হকের নেতৃত্বে এ অপারেশন টিমে ছিলেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি অ্যান্ড অবস) ডা. তৃপ্তি সরকার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. প্রদীপ কান্তি পাল, সহকারী সার্জন ডা. নাজনীন নাহার নীরা, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মো. শরিফ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স হোসনে আরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৭ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু করা হয়। পরবর্তীতে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ২০০০ সালে প্রসূতি সেবা চালু করা হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত ৯টি সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এরপর অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি সার্জারি চিকিৎসকের অভাবে ১১ বছর সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। তবে নরমাল (স্বাভাবিক) প্রসব বিভাগ চালু ছিল।

নবজাতকের বাবা আমানত হোসেন বলেন, ‘অনেক বছর এই হাসপাতালে কোনো সিজার অপারেশন করা হয় না। তাই আমার স্ত্রীর অপারেশনে একটু ভয় লাগছিল। তবে আল্লাহর রহমতে ডাক্তার ও নার্সদের সার্বিক সহযোগিতায় সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। সন্তান ও সন্তানের মা উভয়ই সুস্থ আছেন।’

রুবেলুর রহমান/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।