সেন্সরে আটকে আছে মান্নার শেষ ছবি


প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৫

নিজের ক্যারিয়ারের তুঙ্গের সময়টাতে ছিলেন সবচাইতে জনপ্রিয় নায়ক, ছিলেন সবচাইতে প্রভাবশালীও। বলছি প্রয়াত নায়ক মান্নার কথা।

মান্না মারা যাবার অনেক বছর পার হয়ে গেলেও তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘লীলা মন্থন’ আজও আটকে আছে সেন্সরবোর্ডে।

জানা যায়, জাহিদ হোসেন ও খোরশেদ আলম খসরুর পরিচালনায় মৃত্যুর তিন বছর আগেই এই ছবির কাজ শেষ করেছিলেন মান্না। ছবিটি প্রযোজনা করেছে টিওটি ফিল্মস।

মান্না বেঁচে থাকতেই ছবির অধিকাংশ কাজ শেষ হয়। এর পর পোস্ট প্রোডাকশনের কিছু কাজ শেষ করে ছবিটি জমা দেওয়া হয় সেন্সরবোর্ডে। এ বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেন্সরবোর্ডের ছাড়পত্র না পাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে চলচ্চিত্রটির ভবিষ্যৎ।

মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মিত মান্নার এই ছবিটি কেন আজও মুক্তি দেয়া হচ্ছে না এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছবির পরিচালকেরা।

ছবিটি মুক্তিযুদ্ধে যৌনকর্মীদের অংশগ্রহণের কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে।

সেন্সরবোর্ড ছবিটির অনুমতি দেয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের খসরু বলেন, ‘বোর্ড ছবিটি দেখে বলেছিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে একটি অনুমতিপত্র নিতে হবে। আমরা প্রথমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দুজন প্রতিনিধিকে দেখাই। ছবিটি সম্পর্কে তাঁরা মৌখিকভাবে অনাপত্তি জানান। এর পর ছবিটি সেন্সরবোর্ডে জমা দিলে তাঁরা অনাপত্তির বিষয়টি লিখিত চান। লিখিত অনুমতি আনতে গেলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান অনাপত্তিপত্র দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমরা আবার সেন্সরবোর্ডের কাছে আবেদন করি। তাঁরা আমাদের বলেন যৌনপল্লীর দৃশ্যগুলো বাদ দিয়ে আবার জমা দিতে।’

সেন্সরবোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী কি তাহলে ছবির এই যৌনপল্লীর অংশ বাদ যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে খসরু বলেন, ‘আমাদের গল্পের মূল বিষয়টিই এই যৌনপল্লীকে ঘিরে। যৌনকর্মীরা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, সেটাই আমাদের ছবির গল্প। যে অংশ কেটে বাদ দিতে বলা হচ্ছে, সেটি বাদ দিলে ছবির কিছুই থাকে না। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সকলেই হাতে অস্ত্র নিয়েছিল। বাংলাদেশে এমন অনেক যৌনপল্লী, যেখানে যৌনকর্মীরা মুক্তিযুদ্ধে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। সুতরাং এই অংশ আমরা বাদ দিতে পারব না। আগামী মাসে আমরা আবার সেন্সরবোর্ডের অনুমতির জন্য আপিল করব।’

‘লীলা মন্থন’ ছবিতে মান্না ছাড়াও অভিনয় করেছেন মৌসুমী, শাহনূর, পপি, মুক্তি, দিঘি, বাপ্পারাজ, আলীরাজ, আনোয়ারা, শহিদুল আলম সাচ্চু, মিশা সওদাগরসহ আরো অনেকে। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্ম নেন মান্না। তার আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পরই ১৯৮৪ সালে তিনি ‘নতুন মুখের সন্ধানে’র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। এরপর থেকে একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ২০০ এর অধিক সিনেমায় অভিনয় করেন। মান্না বঞ্চিত মানুষের কথা সিনেমার পর্দায় সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।

নব্বই দশকে অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারা শুরু হলে যে কজন প্রথমেই এর প্রতিবাদ করেছিলেন,তাদের মধ্যে নায়ক মান্না ছিলেন অন্যতম। রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন অশ্লীল চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে। এসব চলচ্চিত্রের নির্মাতাদের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছিলেন।

দাঙ্গা, লুটতরাজ, তেজী, আম্মাজান, আব্বাজান প্রভৃতি চলচ্চিত্রে চমৎকার অভিনয় এর মাধ্যমে জনপ্রিয়তার চূড়া ছুঁয়েছিলেন মান্না। তাঁর অভিনীত আম্মাজান চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।

মান্না শুধু চলচ্চিত্র অভিনেতাই ছিলেন না, তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে যতগুলো ছবি প্রযোজনা করেছেন, প্রতিটি ছবি ব্যবসাসফল হয়েছিল। ছবিগুলো হচ্ছে লুটতরাজ, লাল বাদশা, আব্বাজান, স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ, দুই বধু এক স্বামী, মনের সাথে যুদ্ধ, মান্না ভাই ও পিতা মাতার আমানত।

মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

২০০৮ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মান্না মৃত্যুবরণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই নায়ক।

এলএ/আরআই

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]