নির্বাচনে জিতলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় মডেল ফয়সাল

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

নব্বই দশকের অসম্ভব জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা ফয়সাল আহসানউল্লাহ। দর্শকের কাছে তিনি ফয়সাল আহসান হিসেবেই পরিচিত। তার স্ত্রী হওয়ার সুবাদেই অভিনেত্রী জয়া নামের শেষে ‘আহসান’ যোগ করেছিলেন। সেই দাম্পত্য না ঠিকলেও জয়া এখনো জয়া আহসান নামেই পরিচিত।

নব্বই দশকে তার সময়ে সেরা মডেলদের অন্যতম একজন ছিলেন ফয়সাল। কিউট ট্যালকম পাউডার কিংবা কোকাকোলার বিজ্ঞাপনের সেই লম্বা চুলের ফয়সাল আজও তার ভক্তদের মধ্যে আবেদন ছড়ান।

দীর্ঘদিন সেই প্রিয়মুখের দেখা নেই পর্দায়। নেই কোনো খবরেও। ব্যক্তিগত কারণে শোবিজ থেকে আড়ালে রয়েছেন। এদিকে জানা গেল, মডেল ফয়সাল একজন হকিপ্রেমী মানুষ। নিজে যেমন হকি খেলতে ভালোবাসেন তেমনি বাংলাদেশে হকির জনপ্রিয়তা বাড়াতে নীরবে কাজও করে যাচ্ছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, এবার তিনি জাতীয় হকি ফেডারেশন নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন। সাজিদ-সাদেক প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচন করেছেন তিনি এবং জয়ী হয়েছেন।

সোমবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মোহামেডানের কাউন্সিলর এ.কে.এম মমিনুল হক সাঈদ। তিনি ৪৭-৩৬ ভোটে হারিয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং দেশের হকির অন্যতম কিংবদন্তি আবদুস সাদেককে।

সহ-সভাপতি ৫ জনের মধ্যে রশিদ-সাঈদ পরিষদের আবদুর রশিদ শিকদার সর্বোচ্চ ৫৮ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন। বাকি ৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন সাজেদ-সাদেক প্যানেল থেকে। তারা হলেন- সাজেদ এ এ আদেল (৪৯), ড. মাহফুজুর রহমান (৪৪), জাকি আহম্মেদ (৪৪) ও মোহাম্মদ ইউসুফ আলী (৪০)।

যুগ্ম সম্পাদক পদে জিতেছেন রশিদ-সাঈদ পরিষদের কামরুল ইসলাম কিসমত (৪৫) এবং সাজেদ-সাদেক পরিষদের মোহাম্মদ ইউসুফ (৬৯)।

কোষাধ্যক্ষ পদে রশিদ-সাঈদ পরিষদের হাজী মো. হুমায়ুন ৪৪-৪০ ভোটে হারিয়েছেন সাজেদ-সাদেক পরিষদের কাজী মইনুজ্জামান পিলাকে। এছাড়া সদস্য ১৯ পদে সাজেদ-সাদেক পরিষদের ১২ জন এবং রশিদ-সাঈদ পরিষদের ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

মডেল ফয়সালসহ নির্বাচিত অন্য সদস্যরা হলেন- সাজেদ-সাদেক পরিষদের মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী পাপ্পু (৮০), মোহাম্মদ আলমগীর আলম (৭৪), তৌফিকুর রহমান রতন (৬৮), জাহিদ হোসেন রাজু (৬২), টুটুল কুমার নাগ (৪৯), মাহবুব মোর্শেদ আলম লেবু (৪৮), তারেক এ আদেল (৪৮), হারুন অর-রশিদ রিংক (৪৭), মামুনুর রশিদ (৪৭), মোহাম্মদ ফয়সাল আহসান উল্লাহ (৪৭) ও জহিরুল ইসলাম মিতুল (৪৬), জাফরুল আহসান (৪৫) এবং রশিদ-সাঈদ পরিষদের সাফায়াত হোসেন (৫১), বদরুল ইসলাম দিপু (৪৯), তারিকুজ্জামান (৪৯), খাজা তাহের লতিফ মুন্না (৪৮), জামিল আবদুন নাসের (৪৭), শহিদ উল্লাহ টিটু (৪৬), রফিকুল ইসলাম কামাল (৪৫)।

নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে ফয়সাল বলেন, ‘হকি আমার কাছে নেশার মতো। স্কুল জীবন থেকেই হকি খেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছি। কম্বাইন্ড স্পোর্টিং ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাব, ঊষা ক্রীড়া চক্রের হয়ে টানা ১০ বছর হকি খেলেছি আমি। সেই আবেগের জায়গা থেকে ২০১৫ সালে সাবেক হকি খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘ভ্যাটারান হকি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেছি। বর্তমানে এই সংগঠনেরই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি।

সেই সূত্রেই হকি ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। নির্বাচন করার সুযোগ আরও আগেই ছিল। তখন আগ্রহটা ছিলো না। আমি ঝামেলামুক্ত থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু অনেক বরেণ্য খেলোয়াড় সংগঠক মুরুব্বিরা বললেন আমার নির্বাচন করা প্রয়োজন। তাই সাহস করে নামলাম। জিতে ভালো লাগছে। বাংলাদেশের হকির জন্য ভালো কিছু করতে চাই।’

বাংলাদেশের হকিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় কাজ করবে ফয়সালের প্যানেল। তিনি তার ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। সেইসঙ্গে হকি ফেডারেশনের ভোটারদের ভোটও প্রত্যাশা করছেন তিনি।

হকির বাইরে একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী মডেল ফয়সাল। রেস্টুরেন্ট, বুটিক হাউজ ও এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্টের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ততা তার।

এলএ/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]