মুখপাত্রহীন বিএনপি


প্রকাশিত: ০৮:০৯ এএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৫

সরকার পতন চূড়ান্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে অবরুদ্ধ থেকেই ৫ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই গ্রেফতার হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রাজধানীর এ্যাপোলে হাসপাতালে গতরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউকে না বলে চলে গেছেন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। রাজধানীতে বিক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করলেও রাজপথে দেখা যাচ্ছে না হাক ডাক করা সেই নেতাদেরকে।

এদিকে ৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক মির্জা আব্বাস ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা গেলেও তার পর থেকেই তারাও দৃশ্যপটে নেই। অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দলের নেতাকর্মীদেরকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন।

এরকম পরিস্থিতিতে কে বিএনপির মুখপাত্র তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ৫ জানুয়ারি বিকালে গুলশান কার্যালয়ে পেপার স্প্রে নিক্ষেপের পর খালেদা জিয়া এখনো গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। অবরোধ ঘোষণার পর থেকে অসুস্থতাজনিত কারনে পরবর্তী সময়ে সময়োপযোগী দিক নিদের্শনা দিতে পারছেন না তিনি। তাই বিএনপির বাঁচা মরার এই আন্দোলনে সফলতা ব্যর্থতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, ম্যাডাম অসুস্থ থাকলেও তাকেই নির্ধারণ করে দিতে হবে কে দলটির মূখপাত্র হবেন। সব নেতাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার কারনে হয়তো এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী মনে করেন, দলের সংকট মুহুর্তে অবশ্যই একজন মুখপাত্র থাকতে হবে। খালেদা জিয়া যদি আগেই এরকম পরিস্থিতি হতে পারে ধারণা করে ঠিক করে রাখেন তাহলে ভাল।

তিনি বলেন, দলের এরকম পরিস্থিতিতে বৈঠক করে মুখপাত্র না বানানো গেলেও গোপানে তা ঠিক করতে হবে।  বিএনপিতে ভাসানীর রাজনীতি করা অনেক লোক রয়েছেন যারা এরকম বিষয়টি জানেন।

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করেন, চলমান আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ হওয়া মানে দল শেষ হয়ে যাওয়া। তবে আন্দোলন ১৫দিন চালিয়ে রাখতে পারলে ভাল ফল আসতে পারে।

খালেদা জিয়া খুব শিগগিরই দলের মুখপাত্র নির্ধারণ করে দিতে পারে বলেও ধারণা করেন তিনি। দলের নেতাকর্মীরা হয়তো তার এরকম নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

তবে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান বলেছেন, কে মুখপাত্র এটি সময়মত জানা যাবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।