খাবার আর ব্যায়ামের পরেও কমছে না ওজন, কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩২ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: এআই

ওজন কমানো যে কতটা বড় চ্যালেঞ্জ, তা যারা চেষ্টা করেছেন তারাই ভালো জানেন। হয়তো খাওয়ার পরিমাণ কমিয়েছেন, নিয়মিত ব্যায়ামও করছেন। তবু ওজন যেন এক জায়গায় আটকে আছে। এমন হলে হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে প্রশ্ন হলো-সব ঠিকঠাক করার পরেও ওজন কমছে না কেন?

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সঠিক ওজন ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় অজান্তেই কিছু ভুলের কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ হয় না। কোন ভুলগুলো ওজন কমানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা জানা জরুরি।

বাড়ছে স্থূলতার ঝুঁকি
সারা বিশ্বেই অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.১১ বিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছিলেন। ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রবণতা চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৩.৮০ বিলিয়ন মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় পড়তে পারেন, যা তখনকার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন কমানোর বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।

সকালের খাবার বাদ দেওয়া
ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সকালের খাবার খান না। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এটি ওজন কমানোর পথে বড় বাধা হতে পারে। সকালের খাবার বাদ দিলে শরীরের মেটাবলিজমের গতি কমে যায় এবং পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই সকালের খাবারে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন রাখা জরুরি, যাতে সারাদিন শক্তি বজায় থাকে।

jagr

কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়া
ওজন কমানোর নামে অনেকেই কার্বোহাইড্রেট একেবারেই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেন। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি একটি বড় ভুল। কার্বোহাইড্রেট শরীরকে শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই বেশি কার্যকর।

ডিটক্স ও ক্র্যাশ ডায়েটের ফাঁদ
ডিটক্স টি, ক্র্যাশ ডায়েট বা ফ্যাড ড্রিঙ্কস এখন বেশ ট্রেন্ডিং। শুরুতে ওজন কিছুটা কমলেও এসব পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয় বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে আবার দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শুধু কার্ডিওতেই সীমাবদ্ধ থাকা
অনেকে ওজন কমানোর জন্য কেবল মর্নিং ওয়াক বা হালকা কার্ডিওতেই সীমাবদ্ধ থাকেন।, কার্ডিও সাময়িকভাবে ক্যালোরি পোড়ালেও স্ট্রেংথ ট্রেনিং পেশীভর বজায় রাখে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে তাই দুটির সমন্বয় জরুরি।

স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও পরিমাণমতো না খাওয়া
শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই যে ওজন কমবে, এমন নয়। এনার্জি বার, প্যাকেটজাত বাদাম বা ফলের রস অতিরিক্ত খেলে অজান্তেই ক্যালোরি বেশি হয়ে যায়। সুস্থ থাকতে খাবারের মানের পাশাপাশি পরিমাণের দিকেও নজর দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন কমানো মানে শুধু কম খাওয়া বা বেশি ব্যায়াম করা নয়। সঠিক সময়, সঠিক খাবার, সঠিক ব্যায়াম এবং ধৈর্য-সব মিলিয়ে চেষ্টা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে পারেন।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:
নারীদের আয়রনের ঘাটতি হলে যেসব সমস্যা হতে পারে 
যেসব সমস্যা দেখতে মাইগ্রেনের মতো হলেও মাইগ্রেন না 

এসএকেওয়াই/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।