নদীতে একের পর এক নামছেন ডুবুরি, পাড়ে উৎসুক জনতার ভিড়
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসের যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছেন ডুবুরিরা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে সরেজমিন দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরা নদীতে নামছেন। অক্সিজেন মাস্ক পরে পানিতে নেমে ডুবুরিরা বাসের যাত্রীদের খোঁজ করছেন।
দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল থেকেই ডুবুরিরা কাজ করছেন। আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত পানির নিচে যাত্রীর খোঁজ চলছে। অক্লান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে ডুবুরিরা। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া) শাহজাহান শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের মোট চারটি ডুবুরি ইউনিট বর্তমানে কাজ করছে। যাত্রী নিখোঁজ থাকা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে উদ্ধার অভিযান দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করেছে ফেরির পন্টুনের ওপরে। আকবর হোসেন নামের একজন জানান, বাস পানিতে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই এখানে মানুষের ভিড়। আজ সকাল থেকে অনেকেই দেখতে এসেছেন।

যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ শনাক্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুনে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার পর ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে ওঠেন।
নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু কর। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চলে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে পৌঁছালেও এখনো উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি। এতে নিখোঁজদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন।
টিটি/এমআইএইচএস