শ্রমিকদের জন্য প্রথম বিশেষায়িত হাসপাতাল হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে
শ্রমিকদের জন্য দেশে প্রথম বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় অবস্থিত মন্ত্রণালয়ের শ্রম অধিদফতরের শ্রমকল্যাণ কেন্দ্রের ১০১ শতাংশ জমিতে এই হাসপাতাল নির্মিত হবে। শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় ৩০০ শয্যার এই হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা।
এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শ্রম অধিদফতর এবং এএফসি হেলথ লিমিডেট ও ফর্টিস হেলথকেয়ার। বুধবার (২১ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আফরোজা খান স্বাক্ষরিত ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়, ‘নারায়ণগঞ্জে নদীবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে সেখানকার শ্রমিকদের মধ্যে পেশাগত কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে চলেছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল হওয়ায় অনেককেই দূরবর্তী হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।’

‘এ অঞ্চলে বর্তমানে প্রতি দুই হাজার রোগীর জন্য একটি শয্যা ও একজন ডাক্তার রয়েছেন। এসব রোগীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পেশাগত কারণে রোগে আক্রান্ত। বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা চাহিদা পূরণ ও আরও উন্নত সেবা প্রদানের জন্য ৩০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের প্রস্তাবনা করা হয়েছে, যার মধ্যে আক্রান্ত শ্রমিকদের জন্য ১০০টি শয্যা সংরক্ষিত থাকবে।’
প্রস্তাবনায় বলা হয়, ‘বর্তমানে দেশে ছয় কোটি শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে বিভিন্ন শিল্প যেমন- পোশাক, চামড়া, নির্মাণ, পরিবহন, পাট, চা, তামাক, ওষুধ প্রভৃতিতে মজুর হিসেবে কাজ করছেন। বেশিরভাগ পেশা-ই কায়িক শ্রমভিত্তিক। তাতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি জড়িত। পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপযুক্ত বা প্রত্যাশিত চিকিৎসাও পান না। তাই সুস্থ শ্রমিকের অপ্রতুলতার কারণে শিল্প ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে।’
এতে আরও বলা হয়, শ্রমকিদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন কল্যাণকেন্দ্র পরিচালনা করে। এই কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দেশেজুড়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরা সেবা নিয়ে থাকেন। এসব কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে বেশ কয়েকটিকে স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আরও উন্নত করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
এমইউএইচ/জেডএ/বিএ