‘আমাদের ক্রিকেটারদের দীর্ঘ পরিসরের খেলার চর্চা কম’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:২৯ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২১

পরিসংখ্যান দেখে তাকে বিচার করলে ভুল হবে। ১৬ টেস্টে ২০.৭৮ গড়ে ৫৮২ রান, ৮৫ ওয়ানডেতে ২৪.৭৩ গড়ে ১৯৫৪ আর ১১ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১২৮.০৮ স্ট্রাইকরেটে এক পঞ্চাশে ২২৮ রান- খুবই দুর্বল, জীর্ন পরিসংখ্যান।

ভাববেন না সেটাই আফতাবের ব্যাটিং প্রতিভার নির্দেশক। পরিসংখ্যান যেমনই থাকুক, উইলোবাজ আফতাব আহমেদ যে তার চেয়ে অনেক বড়! অনেক মেধাবি! জাত প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান আফতাব। সম্ভবত দেশের সব সময়ের অন্যতম ফ্রি-স্ট্রোক মেকারদের অন্যতম।

জাতীয় দলে খুব বেশি সময় খেলা হয়নি। বয়স থাকতেও একসময় জাতীয় দলের বাইরে ছিটকে পড়তে হয়েছে ড্যাশিং ব্যাটসম্যান আফতাবকে। তিরিশ পেরিয়েই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করে জড়িয়ে পড়েছেন কোচিংয়ে।

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে প্রথম দুই তিন বছর কেটেছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানে, প্রধান সহকারি কোচের দায়িত্বে ছিলেন আফতাব। এরপর হেড কোচ হয়ে যোগ দিয়েছেন লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জে। প্রথমবার হেড কোচ হয়ে প্রায় লিগ চ্যাস্পিয়ন হয়ে যাচ্ছিলেন আফতাব। শেষ পর্যন্ত আবাহনীর সাথে প্রবল লড়াইয়ের পর রানার্সআপ হয়েই তুষ্ট থাকতে হয়েছে আফতাবের দলকে। এবারের জাতীয় লিগে আফতাব চট্টগ্রাম বিভাগের কোচ।

খেলোয়াড়ী জীবন শেষে কোচ আফতাব আরও পরিণত। দেশের ক্রিকেটের সেকাল, একাল আর ত্রুটি বিচ্যুতি খুব ভালই জানা তার। কেন কী কারণে টেস্টে আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বাংলাদেশের? ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটের সত্যিকার অবস্থা কী?

আসলে সামনে এগুতে হলে করণীয় কী? এসব নিয়ে আজ সোমবার জাগো নিউজের সাথে একান্তে কথা বলেছেন বন্দর নগরী চট্টগ্রামের এ দুর্দান্ত ক্রিকেট প্রতিভা। আসুন শুনি আফতাব আহমেদের সে খোলামেলা কথোপকথন...

জাগো নিউজ : আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ টেস্ট দল এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?

আফতাব : ঠিক কোথায় আছি? তা বোধকরি সরাসরি বলার প্রয়োজন নেই। খুব ভাল জায়গায় যে নেই, ঘরের মাঠে কয়েকমাস আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নড়বড়ে দলের কাছে চরমভাবে পর্যুদস্ত হওয়াই বলে দেয় আসলে কোথায় আছি আমরা।

ওয়ানডেতে আমরা যেভাবে এগিয়েছি, টেস্টে সেভাবে আগাতে পারিনি। আমার মনে হয় টেস্টে আমাদের আরও অনেকদুর এগুতে হবে। সামনে যেতে হবে।

জাগো নিউজ : কেন ওয়ানডের মত টেস্টেও এগুনো সম্ভব হয়নি? ওয়ানডেতে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ থেকে জয়ের পথ খুঁজে পেলেও ২১ বছর পর টেস্টে এখনো জিততে শিখেনি কেন বাংলাদেশ?

আফতাব : এক কথায় এর ব্যাখ্যা দেয়া কঠিন। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় জয়ের পথ খুঁজে না পাওয়ার কারণ আসলে একটি নয়। কয়েকটি কারণ আছে।

বেশিরভাগ এক্সপার্টরা মনে করেন এবং বলেন যে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অবকাঠামো ঠিকমত গড়ে না ওঠা এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আসরটা পুরোপুরি পেশাদার না হওয়ায় টেস্ট পারফরমার গড়ে উঠেছে কম। আর এনসিএল-বিসিএলের দুর্বল, নড়বড়ে কাঠামোর কারণে ক্রিকেটারদের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে কাঙ্খিত উন্নতি হয়নি। মূলতঃ তাই আমরা টেস্টে পারি না।

Aftab

আমিও এ কারণ ও ব্যাখ্যার সাথে একমত। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের স্ট্রাকচার ভাল নয়। মান প্রত্যাশিত না। ভাল উইকেটে খেলাও হয় না। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটটা ভাল নয় বলেই আমরা টেস্টে ভাল খেলি না। আমিও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে উন্নত করতে হবে।

তবে এর বাইরে আরও একটি বড় কারণ আছে। আমাদের ক্রিকেটাররা দীর্ঘ পরিসরের ম্যচ খেলে খুব কম। সাকুল্যে ৫-৬ টা তিন থেকে চার দিনের ম্যাচ খেলায় অংশ নিচ্ছেন আমাদের ক্রিকেটাররা। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত কম সংখ্যক প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে কী আর টেস্টে ভাল করা যাবে? এত কম সংখ্যক প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে আর যাই হোক টেস্টে নিজেকে উন্নীত করা সম্ভব না।

ভারতের দিকে তাকান, দেখবেন তাদের এখন গণ্ডায়, গণ্ডায় ব্যাটসম্যান। কারণ হলো, ভারতের স্কুল ক্রিকেটেই আছে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট চর্চা। একটা স্কুল ছাত্র ২-৩ দিনের ম্যাচ খেলে বড় হচ্ছে।

আমাদের স্কুলের ছেলেরা ওই দুই-তিন দিনের ম্যাচ খেলে কই? আমাদের অনূর্ধ্ব-১২, ১৪, ১৬ ও ১৮ তিনদিনের ম্যাচ খেলে কী? খেলে না। তাহলে কী করে তারা টেস্ট প্লেয়ার হবে বলুন? ওয়ানডে খেলে বড় হয়ে কী আর টেস্ট প্লেয়ার হওয়া যায়? আর হলেই কী তার বেসিক, টেকনিক, কোয়ালিটি এমন ‘রিচ’ হবে? হবে না।

আমাদেরও হয়নি। হচ্ছেও না। একটা গ্যাপ থেকেই যাচ্ছে। সেই গ্যাপটা আর পূরণ হচ্ছে না। আমাদের টেস্ট ক্রিকেট খেলতে গেলে অনূর্ধ্ব-১২, ১৩ থেকে অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ‘র ছেলেদের নিয়মিত দুই আর তিনদিনের ম্যাচ খেলার অভ্যাস করতে হবে। তখন আমরা কয়েক বছর পর গিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভাল খেলোয়াড় পাব। আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভাল ক্রিকেটার পাওয়ার অর্থ ন্যাশনাল টিমেও কোয়িলিটি প্রোডাক্ট আসতে থাকবে।

জাগো নিউজ : আপনি এর বাইরে আর কী কারণের কথা বলতে চান?

আফতাব : আর সবার মত আমিও মনে করি আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের স্ট্যান্ডার্ট আপ টু দ্য মার্ক নয়। আমাদের ক্রিকেটারদের দীর্ঘ পরিসরের খেলার চর্চাও কম। সারা বছরে একজন ক্রিকেটার গড়-পড়তা পাঁচ থেকে ছয়টি মাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে। এটা নেহায়েত অপ্রতুল।

তবে আমি আরও নিচ থেকে মানে ভেতর থেকে আসতে চাই। আমার মনে হয়, এর বাইরে আরও একটি বড় কারণ আছে। তাহলো, লংগার ভার্সনের ক্রিকেটের সাথে নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্ততা খুব কম। আমরা পরের বা নতুন প্রজন্মকে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে সেভাবে উৎসাহিত করতে পারিনি।

আর তাদের ওই দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে চর্চাও খুব কম। আমাদের গ্রাসরুট লেভেল মানে বয়স ভিত্তিক দলগুলো বড়ই হচ্ছে একদিনের সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলে খেলে। অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ আর অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটাররা বড়ই হচ্ছে ওয়ানডে খেলে খেলে। একদিনের সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলে বেড়ে ওঠার কারণে তাদের ওয়ানডের প্রতি দূর্নিবার আকাঙ্খা ও তীব্র উৎসাহ থেকে যাচ্ছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের মেজাজ, টেকনিক, খেলার ধরন, অ্যাপ্রোচ ও অ্যাপ্লিকেশন হয়ে উঠছে ৫০ ওভার উপযোগি।

অথচ টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে পরের প্রজন্মের মূল ক্রিকেট চর্চাই হওয়া উচিৎ দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট দিয়ে। মোটকথা, আমাদের অল্প বয়সী ক্রিকেটারদের যত বেশি সম্ভব লংগার ভার্সন ক্রিকেট চর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। তারা যত বেশি দুইদিন আর তিনদিনের ম্যাচ খেলবে ততই মঙ্গল।

তখন তাদের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণাটা পরিষ্কার হবে। তারা জানবে লংগার ভার্সন ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয়? তখন তারাও নিজেদের ওই ফরম্যাটের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে। ধীরে ধীরে টেস্ট পারফরমার জন্মাতে থাকবে। কিন্তু ওই চর্চা কম বলেই আমাদের মেধাবি, মানসম্পন্ন টেস্ট পারফরমার উঠে আসেনি তেমন।

জাগো নিউজ : এর বাইরে উইকেটের প্রভাব কতটা?

আফতাব : উইকেটের প্রভাবও প্রচুর। আপনাকে ভাল উইকেটে খেলে খেলেই বড় হতে হবে। নিস্তেজ, মরা, ফ্ল্যাট ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি পিচে খেলে অনেক রান করে লাভ নেই। তাহলে আর টেস্টে ভাল দলের কঠিন ও ধারালো বোলিংয়ের মুখোমুখি হলে সফল হওয়া যাবে না। নিজেকে তৈরি করতে হবে ভাল উইকেটে।

ভাল উইকেট বলতে আমি কিন্তু শ’ শ’ রান হয় আর গন্ডায় গন্ডায় শতরান হয়- এমন উইকেটকে বুঝাইনি। খেলতে হবে স্পোর্টিং, ফার্স্ট-বাউন্সি ট্র্যাকে। তবেই না দেশের বাইরে গিয়ে কোয়ালিটি বোলিংয়ের মোকাবিলা করা যাবে।

জাগো নিউজ : কিন্তু বাংলাদেশে কী সবুজ ঘাসের হার্ড, বাউন্সি আর ফাস্ট বোলিং সহায়ক পিচ তৈরি করা সম্ভব?

আফতাব: কে বলে সম্ভব না। খুব সম্ভব। ইচ্ছেটাই আসল। এইতো এইবার আমাদের চট্টগ্রাম বিভাগের খেলা ছিল রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে। ওহহ কী বিউটিফুল উইকেট। দারুন পিচ। একদম ‘ট্রু উইকেট’ যাকে বলে! পুরোপুরি ফাস্ট বোলিং সহায়ক।
বাউন্স আর পেস দুই’ই বেশি ছিল। ওই উইকেটে যে বোলার জায়গামত বল ফেলতে পারবে, তাকে খেলা কঠিন হবে। আবার ব্যাটসম্যানরা যদি ওই পিচে ভাল খেলে রান করতে পারবে, বুঝতে হবে তাদের হার্ড, ফাস্ট ও বাউন্সি ট্র্যাকে খেলার সাহস, টেকনিক আর টেম্পরামেন্ট আছে।

Aftab

এমন উইকেটে যত বেশি খেলা হবে, ততই মঙ্গল; কিন্তু আবার কক্সবাজারে পরের ম্যাচে গিয়ে দেখি একদম ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট। বোলারদের জন্য কিছুই নেই। ব্যাটসম্যানরা স্বচ্ছন্দে খেলছে। যেখানে ব্যাটসম্যানকে আউট করাই দায়! এমন উইকেটে একেকজন দেড়শো, দুইশো রানের ব্যক্তিগত ইনিংস সাজাচ্ছে। আমরাও খুব কৃতিত্ব দিচ্ছি। ভাবছি, আহ! কী দারুণ ফর্মে আছে অমুক ব্যাটসম্যান। কিন্তু খুঁটিয়ে দেখছি না, পিচ ও কন্ডিশন কেমন ছিল?

রাজশাহীর পিচে গিয়ে তার কী অবস্থা হবে? সেখানে বিগ হান্ড্রেড, ডাবল হান্ড্রেড হাঁকাতে পারবে কি না? তা খুঁটিয়ে দেখছি না।

জাগো নিউজ : তাহলে আপনার মত, ‘ট্রু উইকেটে’ ফাস্ট ক্লাস আয়োজন করাই শ্রেয়?

আফতাব : মোস্ট ইম্পরটেন্ট পার্ট হচ্ছে উইকেট। ভারতের মাটিতে এখন প্রায় প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট, বাউন্সি আর ট্রু উইকেটে প্রথম শ্রেণির খেলা হচ্ছে। আমার কথা হলো হাতে গোনা রাজশাহী কিংবা বগুড়ায় হলে চলবে না, প্রত্যেকটি ফাস্ট ক্লাস তথা টেস্ট ভেন্যুতে এমন ‘ট্রু’ উইকেট বানাতে হবে। সেখানেই খেলতে হবে।

আর ওই ট্রু উইকেটে যে সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারবে, বুঝতে হবে ইন্টারন্যাশনাল লেভেলেও তার ভাল খেলার সামর্থ্য আছে।

জাগো নিউজ : তাহলে কী আপনি বলতে চান, যারা ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রান করছে তারা ফাস্ট, বাউন্সি ট্র্যাকে ভাল খেলতে পারবে না?

আফতাব : আসলে আমি কিন্তু নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে বলিনি। আমি বলতে চাই উইকেট যত নিষ্প্রাণ, নির্জীব, মরা আর ব্যাটিং সহায়ক হবে, তত ব্যাটিংটা সহজ হয়। হবেও। এখন আমরা সারা বছর বেশিরভাগ ম্যাচ খেলছি কোমর হাইটের উইকেটে । সেখানে বল আসছে ধীরে। বিপজ্জনক বাউন্স মানে কাঁধ, মুখ, বুক ও মাথায় আসছে না। গড়পড়তা থাকছে হাঁটু ও তলপেট উচ্চতায়।

এমন পিচে খুব সহজে ইচ্ছেমত খেলা যায়। বাড়তি পেস আর বাউন্স কিছুই নেই। কোন ঝুঁকি নেই। ইচ্ছে মত দুলকি চালেই ব্যাটিং করা যাচ্ছে। অমন নির্জীব, মরা পিচে এক সেশন পর পেস বোলাররাও উদ্যম হারিয়ে ফেলছে। তখন কী হচ্ছে, ব্যাটসম্যানদের স্বচ্ছন্দে খেলা, রান করা এবং সেঞ্চুরি হাঁকানো সহজ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে সেঞ্চুরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনোই কাজে দেবে না। দিচ্ছে না। কারণ, দেশের বাইরে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে হবে গড়পড়তা বুক সমান উচ্চতার বল। কাজেই স্লো ও লো ট্র্যাকে খেলে কোনই উপকার হবে না।

জাগো নিউজ : কিন্তু জাতীয় ক্রিকেটারদের বড় অংশ বিশেষ করে তারকা লেভেল আঁটারা যদি নাই খেলেন, তাহলে ফাস্ট-বাউন্সি পিচ করে কোন লাভ হবে কী?

আফতাব : আমার মনে হয় সাকিব-তামিমের মত বিগ স্টাররা প্রথম শ্রেণিতে নিয়মিত অংশ নিলে দেশের ক্রিকেটেরই মঙ্গল। কারণ ওরা যখন একটা উঠতি তরুণের সাথে খেলবে, ড্রেসিং রুম শেয়ার করবে, মাঠে একটা পার্টনারশিপ তৈরি হবে, তখন জুনিয়ররা অনেক কিছু শিখতে পারবে। সেটা ডেফিনেটলি প্লাস পয়েন্ট।

তবে আমার মনে হয় না শুধু ন্যাশনাল টিমের প্লেয়াররা সবাই জাতীয় লিগ বা বিসিএল খেললেই দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট সমৃদ্ধ হবে। আমাদের দরকার ব্যাকআপ প্লেয়ার তৈরি করা। ভারতে দেখেন একেক পজিসনে তিন থেকে চারজন ব্যাকআপ রেডি। গম্ভীর গেছে, শেখর ধাওয়ান চলে আসছে তার জায়গায়। বিরেন্দর শেবাগের পরে রোহিত শর্মা তৈরি হয়েই এসেছেন।

কারণ হচ্ছে ‘ট্রু উইকেটে’ রঞ্জি ট্রফি, দুলিপ ট্রফি, দেওদর ট্রফি খেলা হচ্ছে। ভাল উইকেটে খেলে খেলেই তারা সবাই পরিণত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সবাই নিয়মিত রান করছেন। আমার কথা হলো ট্রু উইকেট হলো শুধু কোয়ালিটি পারফরমারদের জায়গা। খারাপ, দুর্বল আর ত্রুটিপূর্ণ টেকনিকের ব্যাটসম্যানরা সেখানে রান করতে পারবে না। যারা ভাল তারাই ভাল খেলবে। রানও করবে।

আমার শেষ কথা হলো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ঘাসের ফাস্ট বাউন্সি পিচে খেলা আয়োজন করতে হবে। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, অমন উইকেটে তিন বছর খেলার পর আমাদের ছেলেরা দেখবেন বাইরে গিয়ে ভাল খেলছে। কোয়ালিট ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষেও বুকভর্তি সাহস আর কার্যকর টেকনিকে স্বচ্ছন্দে ব্যাট করছে। কিন্তু এখনকার মরা ঘাসের উইকেটে খেললেও লাভ হবে না।

aftab

জাগো নিউজ : কিন্তু বলা হচ্ছে মাঠ কম, তাই ‘ট্রু’ উইকেট তৈরি সম্ভব হয় না?

আফতাব : কে বলছে সম্ভব না। আমাদের তো মাঠ আছে। আমার কথা হলো আপনি সব মাঠকে ফাস্ট ক্লাস ভেন্যু হসেবে ব্যবহার করবেন কেন? আপনি রাজশাহীর ‘ট্রু ’ উইকেটে খেলা দেন। বগুড়া আর খুলনায় অন্তত দুটি করে তিন মাঠে ৬টি ফাস্ট, বাউন্সি ‘ট্রু’ পিচ তৈরি করে রাখেন। তাহলেতেই তো হয়ে যায়।

আমাদের মাঠও আছে। আছে একঝাঁক মাঠ কর্মী। আপনি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড আর দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডে নিশ্চয়ই দেখেছেন দুই তিনজন মাঠ কর্মী মাঠ ও উইকেট তৈরি করছেন। কী চমৎকার মাঠ আর দারুণ উইকেট। আর সেখানে আমাদের প্রায় ভেন্যুতে গড়পড়তা ২০ জন করে গ্রাউন্ডসম্যান। কেন পারবে না? আসলে ইচ্ছে, লক্ষ্য ও পরিকল্পনা থাকতে হবে।

জাগো নিউজ : এবার একটু টি-টোয়েন্টি নিয়ে কিছু বলুন? ওই ফরম্যাটেও তো আমাদের অবস্থা খারাপ। কেন?

আফতাব : টি-টোয়েন্টি আসলে পাওয়ার ক্রিকেট। আর সত্যি কথা বলতে আমাদের পাওয়ার হিটার খুব কম। নাই বললেই চলে। টি-টোয়েন্টি এমন একটা ফরম্যাট, যেখানে উইকেটে গিয়েই হাত খুলে খেলতে হয়। এটা ইভেন ওয়ানডেও নয় যে আপনি থিতু হতে ৮-১০ বল পাবেন। সেখানে ১০ বলেই লাগে ৩০ রান। এমন পাওয়ার হিটার অনেক কম।

জাগো নিউজ : শুধু কী পাওয়ার হিটিং দুর্বলতা? আর কোন সমস্যা নেই?

আফতাব : সেটা তো অবশ্যই আছে। সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির জন্য আলাদা প্ল্যান ও সেটআপ তৈরি করতে হবে। আমার কোন প্লেয়ার টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট? তা খুঁজে বের করে তাদের আলাদা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। চর্চাটাও বাড়ানো দরকার।

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]