কেন এ সপ্তাহে ইউরোপিয়ান ফুটবলে ‘২১’ সংখ্যাটা এত গুরুত্বপূর্ণ?

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

‘২১’— স্রেফ একটি সংখ্যা মাত্র। কিন্তু হঠাৎ করেই চলতি সপ্তাহে ইউরোপিয়ান ফুটবলে এই সংখ্যাটা হয়ে উঠেছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকগুলো গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। মূলতঃ ইউরোপিয়ান ফুটবলে এই এক সপ্তাহে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো ‘২১’ সংখ্যাটির মাহাত্ম্য প্রকাশ করছে।

২১ বছর পর আর্সেনালের মাঠে ফিরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়, টানা ২১ ম্যাচ অপরাজিত এসি মিলান, আবার রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ২১ ছোঁয়া গোল–অবদানে এমবাপের নাম ওঠা ইতিহাসের পাতায়। সপ্তাহান্তে বারবার ঘুরে ফিরে আসছে এই সংখ্যাটিই। যেন এ পরিসংখ্যানই মনে করিয়ে দিচ্ছে, ফুটবলে কখনো কখনো একটি সংখ্যাই বলে দেয় পুরো গল্প।

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সপ্তাহান্তের ফুটবল ছিল নাটক, চমক আর রেকর্ডে ঠাসা। ইংল্যান্ড থেকে স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স— সব জায়গাতেই পরিসংখ্যান নতুন গল্প লিখেছে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

২৪: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ৩-২ গোরে হেরে যায় আর্সেনাল। এ মৌসুমে প্রথমবার গোল করে এগিয়ে থেকেও হারতে হলো গানারদের। এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথমে গোল করে এগিয়ে থাকা ২৪ ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছিল আর্সেনাল।

৩: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়ের অবস্থান থেকে ৩ পয়েন্ট হারাল আর্সেনাল— যা চলতি প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে তাদের আগের সব ম্যাচ মিলিয়েও (২) বেশি।

২১: আর্সেনালের মাঠে পিছিয়ে থেকেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়ের শেষ রেকর্ড ছিল ২০০৫ সালে, অর্থাৎ ২১ বছর আগে।

৬: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রিমিয়ার লিগে অপরাজিত থাকার ধারা দাঁড়াল ৬ ম্যাচে, যা নভেম্বর ২০২২–জানুয়ারি ২০২৩ (তখনও ৬টি) এর পর ক্লাবের সবচেয়ে দীর্ঘ অপরাজিত থাকার রেকর্ড।

৮৩: প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ ৩ গোল কবে হজম করেছিল, ভুলেই গিয়েছিল আর্সেনাল। যা মনে করিয়ে দিলো ম্যানইউ। ২০২৩ সারের ডিসেম্বরের পর এ প্রথম আর্সেনাল কোনো এক প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ৩ গোল হজম করল। সে সঙ্গে শেষ হলো ৮৩ ম্যাচের ধারাবাহিকতা।

৬/১১৭: কোচ মিকেল আর্তেতার অধীনে ১১৭টি হোম ম্যাচে মাত্র ৬ষ্ঠবার প্রিমিয়ার লিগে ৩ গোল হজম করল আর্সেনাল।

স্প্যানিশ লা লিগা

২০+: কিলিয়ান এমবাপে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে এমন একটি এলিট গ্রুপের সদস্য হলেন, যেখানে সদস্য মাত্র ৭ জন। রিয়ালের জার্সিতে প্রথম দুই মৌসুমে ২০+ (২১ বা তার বেশি) লিগ গোল করা সপ্তম খেলোয়াড় এমবাপে। তালিকায় আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, ফেরেঞ্চ পুসকাস, হুগো সানচেজ, পাহিনো এবং রোনালদো নাজারিও।

সব মিলিয়ে রিয়ালের জার্সিতে টানা দুই মৌসুম ২০ এর অধিক গোল করার হিসেবে এমবাপে হলেন ১০ম ফুটবলার। বাকিরা হলেন করিম বেনজেমা, গঞ্জালো হিগুয়াইন ও প্রুডেন।

২৫: ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সর্বোচ্চ গোল অবদান ২৫টি— এমবাপে ও হ্যারি কেইনের। দু’জনই ২১টি করে গোল এবং ৪টি করে অ্যাসিস্ট করেছেন।

৭: কিলিয়ান এমবাপে লা লিগায় তার খেলা দুই মৌসুমের প্রতিটিতেই ৭টি করে পেনাল্টি গোল করেছেন। লা লিগার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি গোল করা দুই খেলোয়াড় হলেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রোনালদো তিনটি মৌসুমে ৭ বা তার বেশি পেনাল্টি গোল করেছিলেন, যেখানে মেসি এই কীর্তি গড়েছেন মাত্র একবার।

রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে পেনাল্টি থেকে গোল করার ক্ষেত্রে এমবাপের (১৪) চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল হ্যারি কেইন (১৫)।

২২: লামিনে ইয়ামাল লা লিগায় নিজের ক্যারিয়ারের ২২তম গোলটি করেছেন এ সপ্তাহে। এর ফলে ১৯ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তিনি এখন হোসে ইরারাগোরির (২৩) থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে, যিনি আছেন ইতিহাসের দ্বিতীয় স্থানে। এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন রাউল গনজালেজ, যিনি ১৯ বছরে পা দেওয়ার আগেই লিগে ২৮টি গোল করেছিলেন।

৪১: বার্সেলোনা টানা ৪১টি লা লিগা ম্যাচে গোল করেছে, যা লিগ ইতিহাসে তৃতীয় দীর্ঘতম ধারাবাহিক গোলের রেকর্ড। এর চেয়ে বেশি টানা ম্যাচে গোল করার নজির আছে শুধু ২০১৬–১৭ মৌসুমের রিয়াল মাদ্রিদ (৫৪ ম্যাচ) এবং ২০১২–১৩ মৌসুমের বার্সেলোনার (৬৪ ম্যাচ)।

ইতালিয়ান সিরি আ

১২৭: লাওতারো মার্তিনেজ এখন ইতালিয়ান সিরি আ’য় ১২৭টি গোলের মালিক। ইন্টার মিলানের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা আলেসান্দ্রো আলতোবেল্লির রেকর্ড ছুঁতে তাঁর দরকার আর মাত্র একটি গোল।

২১: এসি মিলান সিরি আ–তে টানা অপরাজিত থাকার রেকর্ড বাড়িয়ে ২১ ম্যাচে পৌঁছে গেছে। চলতি মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে এটিই এখন সবচেয়ে দীর্ঘ অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা।

জার্মান বুন্দেসলিগা

২৭: অগসবার্গের সামনে গিয়ে থামল বায়ার্ন মিউনিখের ২৭ ম্যাচের অপরাজিত ধারাবাহিকতা। এরইমধ্যে বুন্দেসলিগার ইতিহাসে বায়ার্নের দীর্ঘতম অপরাজিত ধারা দুটি অগসবার্গই ভেঙেছে; এর আগে এপ্রিল ২০১৪ তে ৫৩ ম্যাচের ধারা থামিয়েছিল তারা।

এটি চলতি মৌসুমে বায়ার্নের প্রথম বুন্দেসলিগা হার। তাদের সর্বশেষ হারের ম্যাচ ছিল মার্চ ৮, যখন তারা বোচুমের বিপক্ষে আলিয়ানজ অ্যারেনায় দ্বিতীয়ার্ধের লিড হারিয়ে ৩–২ হারের মুখে পড়েছিল।

১৫: শেষ ১৫ মৌসুমে এটি প্রথমবার বায়ার্নের হার, যখন তারা প্রথম ২০ মিনিটে এগিয়ে থাকার পর বুন্দেসলিগা ম্যাচ হারে। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০ মার্চ ২০১০–এ, যখন এইন্ট্র্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে বায়ার্ন এগিয়ে থাকা অবস্থায় ০–১ থেকে ২–১ গোলে হেরে যায় (গোল করেছিলেন ত্সুমু ৮৭ মিনিটে এবং ফেনিন ৮৯ মিনিটে)।

ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান

১: লিওঁর ৫-২ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবরার এনদ্রিক। তিনি হলেন কিলিয়ান এমবাপের (২০১৮) পর ১৯ বছর বা তার কম বয়সে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে হ্যাটট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়। এছাড়া এটা ছিল এনদ্রিকেরও প্রথম হ্যাটট্রিক।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।