মুস্তাফিজ যেন স্বপ্নের নায়ক


প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ০৩ জুন ২০১৬

শিখা তার পাঁচ বছরের ছেলে সাদকে নিয়ে যশোর থেকে এসে মুস্তাফিজের দুয়ারে দাঁড়িয়ে। ছেলের আবদার পূরণ করতে তাকে নিয়ে মুস্তাফিজের জন্য অপেক্ষা। কাছ থেকে এক নজর দেখবে, কথা বলবে ও মোবাইলে সেলফি তুলবে- এটাই আপাতত ইচ্ছা।

ঢাকা জেলার নিকটবর্তী নারায়নগজ্ঞ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নুরুন্নাহার আক্তার চৈতী একদিন আগেই সাতক্ষীরা এসে অপেক্ষার পর অবশেষে মুস্তাফিজের বাড়ীতে হাজির হয়েছেন। তারও উদ্দেশ্যে একই। সামনে থেকে দেখা ও একটা সেলফি তোলা।

এভাবেই ভক্তরা এসেছেন সিরাজগজ্ঞ, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে মুস্তাফিজকে এক পলক দেখার জন্য, তার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সেলফি তুলতে। অ¤øান বদনে মুস্তাফিজও যথাসম্ভব পুরণ করে যাচ্ছেন ভক্তদের আবদার।

এই মুস্তাফিজ যেন এখন এক স্বপ্নের নায়ক। যে নায়ককে নিয়ে কৌতুহলী মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। দিন যত যায় ততই বাড়ছে তার বাড়ীতে ভক্তের সংখ্যা। তার একটু ছোঁয়া, তাকে একটু দেখা আর একটা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করে রাখার লোভে প্রতিদিনই শতশত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে তার বাড়ীতে।

শুক্রবার দুপুরে মুস্তাফিজের বাড়ীতে পৌঁছানোর পর জাগো নিউজের দৃষ্টিতে পড়ে এসব। যশোর থেকে আসা পাঁচ বছরের শিশু সাদ জাগো নিউজকে বললো, আমি মুস্তাফিজ ভাইয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে ও সেলফি তুলতে যশোর থেকে এসেছি। আমিও মুস্তাফিজ ভাইয়ার মত বড় ক্রিকেটার হতে চাই। আমিও ভালো বল করতে পারি।

সাদের আম্মা শিখা বলেন, বাচ্চার কান্নাকাটির কারণে আসতেই হলো অনেক দুরের পথ পাড়ি দিয়ে। তার আবদার মুস্তাফিজকে দেখবেই। শেষ পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ করে দিলো। অতপর মুস্তাফিজকে দেখানোর আশ্বাস দিলেই খাবার মুখে নেয়। অবশেষে বাচ্চাকে নিয়ে মুস্তাফিজের বাড়ীতে আসা।

সিরাজগজ্ঞ থেকে আসা ভক্ত শিমুল বলেন, আইপিএলের ফাইনালের দিন আমরা বন্ধুরা মিলে বাজি ধরেছিলাম যদি ফাইনালে মুস্তাফিজের দল জিতে যায় তবে তার বাড়ীতে যাব। সে কথার সুত্র ধরেই আমার মুস্তাফিজের বাড়ীতে আসা। শুভেচ্ছা জানানো এবং একটি সেলফি তুলবো, তারপর ফিরে যাবো।

সদা হাস্যোজ্জল মুস্তাফিজ জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন শত শত ভক্ত আসছেন। শুভেচ্ছা জানাতে ও একসাথে ছবি তুলতে। আমি কখনো বিরক্তবোধ করি না। শুভাকাঙ্খী, ভক্তরা তো আসবেই। সব সময় চেষ্টা করি সকলকে খুশি করার। আমার দ্বারা যেন কেউ কষ্ট না পায়।

মুস্তাফিজের সাথে সেলফি তোলার পর যশোরের শিশু সাদ বললো, মুস্তাফিজ ভাইয়া খুব ভালো। আমার সাথে কথা বলেছে। একসাথে ছবি তুলেছি। ছুটির দিনগুলোতে এভাবেই ভক্তদের সাথে সময় দিয়ে মধুর সময় পার করছেন মুস্তাফিজ।

আকরামুল ইসলাম/আইএইচএস/এসকেডি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।