মেঘ ডাকলেই বুক ধড়ফড় করে


প্রকাশিত: ০৬:৫৩ এএম, ০৬ জুন ২০১৬

মেঘ ডাকলেই বুকের মধ্যে ধড়ফড় করে। বাচ্চা শিশু নিয়ে কোথায় থাকবো? কোথায় যাবো? মরণ ছাড়া কোনো গতি নেই।  জাগো নিউজের কাছে কথাগুলো বলছিলেন দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা এলাকার অনিল কুমার। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সাতক্ষীরার ইসামতি নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসতি তার।

দেবহাটা উপজেলার হাড়দহ থেকে কালিগঞ্জের বসন্তপুর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়েই ইসামতি নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন। নাম মাত্র কিছু এলাকা সংস্কার হলেও তার কোনো সুবিধাই পায়নি এলাকাবাসী।

satkhira-river

ভারত সরকার ২০১০ সালে ইসামতি নদীর ভারতীয় ভূখণ্ডে বোল্ডার দিয়ে নদীর ভাঙন রোধ করে দেয়। ড্রেজিং করে নদীর ভারতীয় অংশ। কিন্তু বাংলাদেশ অংশে নদী ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন। ফলে ভারতীয় পানির চাপে বাংলাদেশি ভূণ্ডি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একদিকে ভূখণ্ড হারাচ্ছে বাংলাদেশ অন্যদিকে বদলে যাচ্ছে দেশের মানচিত্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নদীর মাঝখান থেকে উভয় দেশে চিহ্নিত সীমানা পর্যন্ত খনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চুক্তি হয় ভারত সরকারের। কিন্তু ভারত সরকার শুধু ভারতের অংশে ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে।

satkhira-river

একই সঙ্গে ভারতীয় অংশে বোল্ডার দিয়ে নদী ভাঙন রোধ করে দেয়। বাংলাদেশ অংশে কোনো ড্রেজিং ও নদীর পাড়ে ব্লক বা বোল্ডার দেয়া হয়নি। ভারতীয় পানির চাপে বর্তমানে বাংলাদেশ অংশে নদী ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শিবনগর নামে একটি মৌজা।

দেবহাটা সদরের রুহুল আমিন জানান, ভারত সরকার ২০১০ সালে নদীর ভারতীয় পাড়ে আরসিসি ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ ভাঙা প্রতিরোধ করেছে। তাদের পাশে বালি কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে স্রোতটা আমাদের দিকে চাপ সৃষ্টি করছে। যার কারণে ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

satkhira-river

তাছাড়া বিভিন্ন সময় নদীর পানিতে শুশিলগাতি, শিবনগর, দেবহাটা, আজিজপুর, দাদপুর, শ্রিপুর গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।

টাউনশ্রীপুর এলাকার রহিমা বেগম বলেন, নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে আমাদের বাড়ির পাশে চলে এসেছে। এটুকু ভেঙে গেলে আমাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

satkhira-river

শুশিলগাতি এলাকার পরিমল সরকার বলেন, ভাঙনটা এক্ষুনি রোধ করা না গেলে বাংলাদেশি সীমান্ত ভারতে পরিণত হবে। আমরা ভূমিহারা হবো। মানুষ বেকার হয়ে যাবে। সাতক্ষীরার প্রধান অর্থকরি ফসল চিংড়ি আমরা সেটাও হারাবো। তাছাড়া বাংলাদেশ ভূখণ্ড হারাবে।

এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছে বেড়িবাঁধের জন্য কোনো বরাদ্ধ আসে না। আসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বেড়িবাঁধের প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

satkhira-river

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক জাগো নিউজকে বলেন, কিছু এলাকায় ভাঙন আছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে আমরা ভাঙন রোধে কাজ শুরু করবো।

এদিকে, নদী ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষরা।  

আকরামুল ইসলাম/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।