নানান রঙে সেজেছে গরিবের ঈদ মার্কেট


প্রকাশিত: ০৬:৩৩ এএম, ৩০ জুন ২০১৬

টাঙ্গাইলে রং বেরঙে সেজেছে গরিবের ঈদ মার্কেট। লেগেছে কেনাবেচার ধুম। নিম্ন আয়ের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আগমনে এখন সরগরম হয়ে উঠেছে মার্কেটগুলো। টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানের ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রয়েছে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মার্কেট।

এসব মার্কেটগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত জেলা সদর রোডের ডিজিটাল হকার্স মার্কেট, কোর্ট চত্বর মার্কেট ও বড় কালিবাড়ীর ফুটপাত মার্কেট।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েদের শাড়ি, বোরকা, থ্রি পিস, জামা, জুতা, গহনা, সাজ সজ্জার প্রসাধনী, পুরুষের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, লুঙ্গিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার দ্রব্যাদীই পাওয়া যাচ্ছে এ মার্কেটগুলোতে। এছাড়া রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে আতর, টুপি এবং বেল্ট। এই মার্কেটগুলোতে ২০ টাকা থেকে হাজার টাকার কাপড় পাওয়া যায় বলে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জায়গাটি।

tangile

ডিজিটাল হকার্স মার্কেটে গিয়ে কথা হয় ধরেরবাড়ী গ্রামের ক্রেতা মরিয়মের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদ ধনী গরিব সকলেরই আনন্দের দিন। দিনটা আনন্দের হইলেও আমগো মত গরিবের মরণ। যাগো খায়োনই জুটেনা তাগো আবার আনন্দ। এরপরও পয় পুলাপানের খুশির জন্য আইতে হয়। ঈদে নতুন জামা পিইনবো এইডা ক্যাড়া না চায়। এর লাইগা এহান থেইকা দুই পুলা ও দুই মাইয়ার জন্য ১৫শ ট্যাকার কাপড় কিনছি। আমাগোডা আজক্যা আর কেনা হইবো না। যদি ট্যাকা হয় তাইলে ঈদের আগে আবারো আমু।

দিনমজুর এক ক্রেতা জানান, বউ আর দুই মাইয়ার কাপড় কিনবার আইছি। ৫শ ট্যাকা দিয়া বউয়ের একটা শাড়ি কিনছি। ম্যাইয়া গো জামার দাম বেশি। দুইটা জামা ৬শ ট্যাকা কয়লাম দুহানদার দিলনা। অন্য দুহানে দেহি। এরপরও তো খায়োনেরটা রইছে। ধনীরা ঢাকাসহ শহরের বড় বড় মার্কেটগুলাতে কেনাকাটা করবার পারে কিন্তু ঈদ আইলে আমগো মতন ম্যাইনসের মরণ বাধে।

এনজিও কর্মী রফিকুল ইসলাম বললেন, আমি ঈদের কাপড় কিনলাম। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই সকল মার্কেটই ভরসা। এখানে কম দামে সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়।

tangile
 
ডিজিটাল হকার্স মার্কেটের বিক্রেতা রহিম মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ বছর কাপড়ের দাম একটু বেশি। এর জন্য বিক্রি করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। গরিব মানুষের মার্কেট, জিনিসের দাম বাড়ায় গত বারের মত বিক্রি হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
 
বিক্রেতা অভিজিত সাহা বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। প্রতিদিন আমি ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করছি। সংসারটা এ ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। এখানে ১৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্তও দামের কাপড়ও বিক্রি করা হয়।

কোর্ট চত্বরের কাপড় ব্যবসায়ী শামসুল হক জানালেন, এখানে ১০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার কাপড় পাওয়া যায়। এটি মূলত গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মার্কেট। তবে এখন সব ধরনের লোকজনই এ মার্কেট থেকে কাপড় ক্রয় করে থাকেন। ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। গত ৩ দিনে আমি ১৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা চট্রগ্রাম থেকে একটি বেল্ট কিনে আনি। প্রতিটি বেল্টে খরচ হয় প্রায় ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এখানে ছোট শিশুদের কাপড় ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, বড়দের জন্য শার্ট-প্যান্ট ১শ থেকে ৩শ টাকা, এছাড়া উন্নত মানের কাপড় দেড়শ থেকে ৫শ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।