পাবনায় ৪ সাবেক বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
পাবনায় তিনজন সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও একজন রেঞ্জারের বিরুদ্ধে বনায়ন না করেও ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে ১৭ লাখ ৫১ হাজার ১৯৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনা সদর থানায় দুদক পাবনার সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা ও উপ সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার গাজনার বিল সংযোগ বাদাই নদী খনন, সেচ সুবিধা উন্নয়ন ও মৎস্য চাষ প্রকল্পের আওতায় বনায়নের জন্য অস্থায়ী নার্সারি স্থাপন, নার্সারিতে চারা উত্তোলন, নার্সারিতে প্রস্তুতকৃত চারাগাছ বসত বাড়িতে রোপণের জন্য বিতরণের কথা ছিল। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক খাল খননের পর বাদাই নদীর দুই তীরে ২০ কি.মি. এলাকায় ২০ হাজার চারা রোপণ, স্ট্রিপ বাগান বাস্তবায়ন করারও কথা ছিল।
কিন্তু অভিযুক্ত ফরেস্ট রেঞ্জার মোখলেছুর রহমান ওই প্রকল্পের কাজ না করেও চারাগাছ রোপণ/বিতরণ দেখিয়ে তা উৎপাদন ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৭,৯৭,১৯৮ টাকার ভুয়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করে কর্তৃপক্ষ বরাবর দাখিল করে তা আত্মসাত করেন।
এক্ষেত্রে পাবনার সাবেক তিনজন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র, মুহাম্মদ সাঈদ আলী ও মোহাম্মদ হারুন আর রশিদ, অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বিশ্বাস ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন বিতরণের কাজ যথাযথভাবে বুঝে না নিয়ে দাখিলকৃত ভুয়া ভাউচার কোনোরূপ যাচাই-বাছাই না করে ভুয়া বিল ভাউচার ও মিথ্যা প্রতিবেদন অনুমোদন করেন। ৭,৯৭,১৯৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় মামলা (নং ৫৫ তারিখ ২০/০৭/২০১৭) দায়ের করা হয়।
এদিকে ফরেস্ট রেঞ্জার মোখলেছুর রহমান ও সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র একইভাবে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলাধীন রূপপুর ইউনিয়নের বড় ভবানীপুর মৌজার ১৬.০৯ হেক্টর ভূমিতে উডলট বাগান সৃজন না করেই ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল ও অনুমোদনের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানায় অপর মামলাটি (নং ৫৬ তারিখ ২০/০৭/২০১৭) দায়ের করা হয়েছে। এ মামলা ২টির বাদী দুদক পাবনার সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা।
এছাড়া ফরেস্ট রেঞ্জার মোখলেছুর রহমান ও সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র একইভাবে ২০১০-১১ অর্থ বছরে পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নের কাকশিমূল এলাকায় ২৫ হেক্টর বাগান সৃজন না করে তথা ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার কাজ না করেও চারাগাছ রোপণ/বিতরণ দেখিয়ে তা উৎপাদন ও অন্যান্য খরচ বাবদ ভুয়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করে ওই টাকা আত্মসাত করেন। এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানায় মামলা (নং ৫৭ তারিখ ২০/০৭/২০১৭) দায়ের করা হয়। এ মামলার বাদী দুদক পাবনার উপ-সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান।
দুদক পাবনার সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা ও উপ-সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান মামলা তিনটির বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
একে জামান/আরএআর/জেআইএম