অভিভাবকদেরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল সাদ্দাম
বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম দলীয় শৃঙ্খলাতো দূরের কথা অভিভাবকদেরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলেন। এর আগেও একাধিকবার কলেজের বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেছেন। এসব নিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়েছে। বিশেষ করে কলেজ রোডের বাসিন্দা হওয়াতে বেপরোয়ার মাত্রা বেড়েই চলে তার। কোনো কিছুর তোয়াক্কা করতেন না তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রীকে বিএনসিসির পোশাক পড়া অবস্থা দেখেই সাদ্দাম তাকে 'মাইট্যা পুলিশ' বলে উত্ত্যক্ত করছিল। মেয়েটি প্রতিবাদ করায় সহপাঠীদের সামনে পিটিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন নামে ওই ছাত্রলীগ নেতা। উপর্যুপরি চড়থাপ্পড় ও কিলঘুষিতে ওই ছাত্রীর চশমা ভেঙে ফেলেন সাদ্দাম।
কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ খালিদ সাইদুল্লাহ সাদী।
ওই ছাত্রীর স্বজনরা জানান, বিএনসিসির সদস্য ওই ছাত্রী সংগঠনের পোশাক পরে প্যারেডে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় সাদ্দাম কুরুচিপূর্ণ নানা মন্তব্য করে তাকে উত্ত্যক্ত করছিল। এক পর্যায়ে ছাত্রীটি উঠে এসে প্রতিবাদ করে। এসময় সাদ্দাম তাকে প্রথমে চড়থাপ্পড় ও পরে বেধড়ক মারধর করে।
ওই ছাত্রলীগ নেতা মাদকসেবী উল্লেখ করে তারা অভিযোগ করেন, সে প্রায়ই নারীদের উত্ত্যক্ত করে থাকে। এ ঘটনায় কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গিয়ে সাদ্দামকে আটকের আশ্বাস দেয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগেও এসব কারণে পুলিশ তাকে বেশ কয়েকবার আটক করে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম মনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পর দ্রুত পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে অবহিত করি। এরপর ওই বখাটেকে গ্রেফতার করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ দ্রুত কলেজে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদ্দামকে গ্রেফতার করে।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/পিআর