তাড়াশে ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ ৭ ইউপি চেয়ারম্যান
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হকসহ উপজেলার ৭ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
রোববার বিকেলে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন। গত বছর ৩০ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হককে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় দলের নেতাকর্মীরা মারপিট করেন এবং পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায়ও তারা শঙ্কিত। যে কারণে তারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও বারুহাস ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন বলেন, তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
আর স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়তে থাকেন। এ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত বছর ৩০ অক্টোবর ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ আলীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হকের উপর হামলা চালিয়ে তাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেন।
এ সময় অন্যান্য চেয়ারম্যানগণও সন্ত্রাসীদের মারপিটের শিকার হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ আলী বিদ্যুতকে গত শুক্রবার গ্রেফতার করে পুলিশ।
ওইদিনই তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদী ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল শেখের ব্যক্তিগত অফিস হামলা চালায় এবং মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়।
এসব ঘটনার পর থেকেই ওই মামলার বাদীসহ আমরা সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানগণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সন্ত্রাসীরা যেকোনো সময়ে যেকোনো চেয়ারম্যানকে হত্যা করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হক, তাড়াশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ, সগুনা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকি, দেশীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস, তালম ইউপি চেয়ারম্যান আব্বাসুজ্জামান, তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিজ ও ইউনুস তাড়াশীসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/আরআইপি