দীঘিনালায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ঝড়ের অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক লাইন।
সোমবার ভোর ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত টানা ঘণ্টাব্যাপী চলে এ কালবৈশাখী ঝড়। এতে দীঘিনালাজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের ৯ মাইল এলাকায় মিলন কার্বারী পাড়া। সেখানে অন্তত ৯টি বাড়ির সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া একাধিক বাড়িঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

মিলন কার্বারী পাড়ার বাসিন্দা কমল বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ভোর সোয়া ৫টার দিকে আকস্মিক ঝড়ে তার মাটির ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। এ সময় ছেলে-মেয়েদের পাঠ্যবইসহ ঘরে থাকা শুকনো ধানের ভিজে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও তার বাড়ির পাশের ফলদ বাগানের আম, কাঁঠাল ও নারিকেল গাছ ঝড়ে উড়ে গেছে।
ত্রিপুরা অধ্যুষিত এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকারের সহযোগিতা না পেলে খোলা আকাশের নিচেই তাদের দিন কাটাতে হবে।
এদিকে দীঘিনালার জামতলী এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে মানিকছড়ি হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি কক্ষের টিনের চালা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কক্ষগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

মেরুং ইউনিয়নের ২নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য ঘন শ্যাম ত্রিপুরা বলেন, ভোরে কালবৈশাখীর আঘাতে পাড়াটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী অফিসে তা জমা দেয়া হবে।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের আওতাধীন দীঘিনালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে মিলন কার্বারী পাড়াটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা পাওয়া গেলে দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/আরএ/এমএস