৬৮ কোটি টাকার আম নিয়ে বিপাকে চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ০৪ জুলাই ২০১৮

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে উৎপাদিত ৬৮ কোটি টাকার আম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

২০০০ সালে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উপজেলার ২০ জন চাষিকে ১০০টি করে আম্রপালি চারা দিয়ে প্রদর্শনী প্লট শুরু করে। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫০০ আম চাষি ৩০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করেন।

উপজেলার প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ছোট-বড় অসংখ্য আম বাগান রয়েছে। এসব আম বাগান থেকে চলতি মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। এবছর উৎপাদিত আমের বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। আমের সংরক্ষণাগার ও বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় সখীপুরে উৎপাদিত প্রায় ৬৮ কোটির আম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

Tangail-Mango

এখানে দুর্লভ বারি-৪ ছাড়াও মল্লিকা, পালমার, পাল্লুতান, মহানন্দা, গোপালভোগ, গোপাল খাস, প্রাপ্তি, দশোরী, বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি, ফজলি, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগসহ প্রায় ৩৬ জাতের আম চাষ করা হচ্ছে। তবে সখীপুরের মাটি আম্রপালির (বারি-৪) জন্য বেশি উপযোগী বলে জানান আম চাষিরা।

কীটনাশক ও ফরমালিনমুক্ত এসব আম উপজেলার চাহিদা পূরণ করে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা, বিভাগীয় শহর ঢাকা- ময়মনসিংহসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেপারীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে, মৌসুমের শুরুতে কারওয়ান বাজার, বাদামতলী, সদরঘাটসহ দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে বেপারীরা এখানকার আম বাগান আগাম কিনে নিয়েছেন। সখীপুরে উৎপাদিত আমের সংরক্ষণাগার ও বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভের বড় অংশ লুফে নিচ্ছেন। তাই এখানে আমের বাজার স্থাপন এবং সংরক্ষণাগার স্থাপন করা দরকার বলে জানান চাষিরা।

Tangail-Mango

উপজেলার সফল আম চাষি জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সখীপুরে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সংরক্ষণাগার না থাকায় আম পাকা শুরু হলে দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়। এতে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। এই সুযোগে বাগান মালিকদের চেয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভের বড় অংশ লুফে নেয়। তাই এই উপজেলায় আমের সংরক্ষণাগার ও বিপণন ব্যবস্থা স্থাপনের জোর দাবি জানান তিনি।

সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সখীপুরের মাটি আম্রপালি (বারি-৪) আম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তৎপরতা এবং স্থানীয় আম চাষিদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণের ফলে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে আম চাষিরা। চাষিদের কল্যাণে দ্রুত একটি আম সংরক্ষণাগার ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।