বুলেটকেও প্রতিহত করবে বিএনপি নেতাকর্মীরা
বগুড়া-৭ আসন। গাবতলী ও শাজাহানপুন উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে চারবার বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে মহাজোটের কোনো প্রার্থী না থাকায় এ আসন থেকে এমপি হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলতাফ আলী।
এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সবদলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুবাতাসে ভাসছে সারা দেশে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইতোমধ্যে এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কোনো কারণে খালেদা জিয়া বা জিয়া পরিবারের কেউ যদি নির্বাচনে অংশ না নেন সেক্ষেত্রে জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।
পাশাপাশি গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিল্টন, শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদল এবং ভাইস চেয়ারম্যান জাহেরুল ইসলাম জহুরুলও দলীয় মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিএনপির একাধিক সূত্র।
১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার গ্লানি মুছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে যখন বিএনপি সারা দেশে আন্দোলন, সংগ্রাম ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে ঝিমিয়ে পড়েছে বগুড়া-৭ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা। তফসিল ঘোষণার আগে এবং পরে দলীয় নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি।
শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সরকার বাদল বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল হলে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বা জিয়া পরিবারের কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে সেক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি প্রত্যাহার করা হবে। তবে নেতাকর্মীদের ঝিমিয়ে পড়ার বিষয়টি ঠিক নয়। আওয়ামী সরকারের জুলুম, নির্যাতন এবং গায়েবি মামলার কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে পারছে না। অনেকে জেলে বন্দী। সেদিন আর বেশি দূরে নয়। নির্বাচনের আমেজ শুরু হলে মাঠে নেমে পড়ার পাশাপাশি এবার বুলেটকেও প্রতিহত করবে বগুড়ার বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে জানতে সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে বিএনপির দুর্গখ্যাত এ আসনে হানা দিতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন দলটির ১০ জন নেতা। মনোনয়ন উত্তোলনকারীরা হলেন- বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম নান্নু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আছাদুর রহমান দুলু, সাবেক এমপি কামরুন নাহার পুতুল, জেলা পরিষদের সদস্য গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচ আজম খান, বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফি নেওয়াজ খান রবিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভপতি ভিপি সাজেদুর রহমান শাহিন, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের ক্ষেতমজুরবিষয়ক সম্পাদক ইমারত আলী, শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি এম সুলতান আহমেদ, জেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সভানেত্রী শামীমা আক্তার জলি এবং গাবতলী উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য সাব্বির হাসান জাফরু পাইকার। কিন্তু কে হবেন নৌকার মাঝি এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, তফসিল ঘোষণার অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুন, সভা-সমাবেশ করে আসছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সেদিক থেকে মাঠ গরম করে রেখেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আছাদুর রহমান দুলু। যার পদচারণা নির্বাচনী এলাকার আনাচে-কানাচে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। পাশাপাশি বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম নান্নু ও জেলা আওয়ামী লীগের য্গ্ম সম্পাদক টি জামান নিকেতা, জেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সভানেত্রী শামীমা আক্তার জলিসহ অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচার-প্রচারণার মাঠে দেখা গেছে।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আছাদুর রহমান দুলু বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। দলীয় মনোনয়ন পেলে গাবতলী ও শাজাহানপুর আসনে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে ইতিহাস গড়তে চাই। অন্য কাউকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলীয় সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
লিমন বাসার/এএম/জেআইএম