‘হামাকেরে গ্রামত একটা শয়তান তৈরি হচে’
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলম গ্রেফতারের খবরে তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের পলিবাড়ী গ্রামে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গ্রামের মানুষ তার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে হিরো আলমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হিরো আলমের ব্যাপারে পলিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হালিমা খাতুন বলেন, হামাকেরে গ্রামত একটা শয়তান তৈরি হচে। বিটিছোল লিয়া লাচালাচি আর ঢলাঢলি করে হিরো তৈরি হচে। আবার বউওক মারধর করে। ছোট তিনটা ছোলের কতাও ভাবলো না। ইংকা শয়তানের বিচার হওয়া লাগবি।
আব্দুর রউফ পাটোয়ারি নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, একটা মানুষ কতোটা নিচে নামতে পারে তা হিরো আলমকে না দেখলে বোঝা যাবে না। কিছু টাকা হইছে, তারই গরম এগুলা। গ্রামে অনেকেই জানে তার চরিত্রের দোষের কথা। এখনতো তার বউই সব ফাঁস করে দিছে।
এরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মন্ডল বলেন, হিরো আলমের বাড়ির লোকজন আমার কাছে এসেছিল পুলিশের কাছে তাকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করার জন্য। আমি পারব না বলে জানিয়ে দিয়েছে। একটা বদমাইশ ছেলের জন্য গ্রামের দুর্নাম হচ্ছে। ওর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিরো আলমের স্ত্রী সাদিয়া বেগম সুমি জানান, দুই মাস পর গত সোমবার রাতে হিরো আলম বগুড়া শহরতলীর এরুলিয়ায় তার বাড়িতে আসেন। বাসায় ফেরার পর থেকে বিছানায় শুয়ে একটানা তিন ঘণ্টা মোবাইলে ঢাকার এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন হিরো আলম। এর প্রতিবাদ করলে রাতেই তাকে বেধম মারধর করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, হিরো আলম ঢাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এ কারণে বগুড়ায় থাকা স্ত্রী-সন্তানের কোনো খবর রাখেন না এবং সংসার খরচ দেন না। এর প্রতিবাদ করায় এর আগেও তাকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন হিরো আলম।
হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তার মেয়েকে আবারো নির্যাতন করছে খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করেন। মারধরে তার মেয়ে সুমির মাথার পেছনে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। এ কারণে তিনি যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
লিমন বাসার/আরএআর/এমকেএইচ