জমি ফিরে পেলেন ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সেই বাবা-মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ২৭ মে ২০১৯

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে প্রতারণার মাধ্যমে জমি লিখে নিয়ে বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে হাশেম আলী। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজন চেষ্টা করেও অসহায় বাবা-মাকে বাড়িতে তুলে দিতে পারেননি। এমনকি জমিও ফেরত নিতে পারেননি তারা। অবশেষে জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনির হস্তক্ষেপে ওই বাবা-মা জমি ফিরে পেয়েছেন।

সোমবার দুপুরে সেই বাবার বাড়ি গিয়ে সেখানে সরকারিভাবে ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ সময় মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার, মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিদুল ইসলাম, কোমরপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই দেবাশীষ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, কোমরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাশেম আলী জমি লিখে নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছিল। ছেলের অত্যাচারে বাবা তার নামে এক শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগে হাশেম আলী প্রতারণা করে বাবা-মায়ের পুরো তিন শতক জমি লিখে নেয়। পরে জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পর বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাবা-মায়ের ঘর ভেঙে দেয় সেখানে পাকা বাড়ি করার জন্য। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার লোকজন কয়েক দফা মীমাংসা করে হাশেমকে জমি ফেরত দিতে বললেও সে জমি ফেরত না দিয়ে বাবা-মাকে অত্যাচার করতো। এমনকি সে আদালতে একটি মামলাও করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। এদিকে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হাশেমের মা সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে হাশেম আলীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করেন। হাশেম আলী জেলা প্রশাসকের কথা মতো আগামী বৃহস্পতিবার বাবার নামে দুই শতক জমি লিখে দেয়ার কথা স্বীকার করে এবং বাবা-মায়ের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

meherpur02.jpg

হাশেম আলী বলেন, ‘আমি ভুল করেছিলাম। বাবার নামে দুই শতক জমি লিখে দেব। বাবা-মায়ের সঙ্গে আর কখনো খারাপ ব্যবহার করবো না।’

বাবা আবুল কাশেম বলেন, তিন বছর ধরে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। তার মামলায় আসামিও হয়েছি।

মা রওশন আরা বলেন, এমন সন্তান যেন কারো ঘরে না জন্ম নেয়।

মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোমরপুর গ্রামে হাশেম আলীর সঙ্গে তার বাবা-মায়ের দ্বন্দ্ব চলছিল। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মীমাংসার জন্য কয়েকবার তাদের সঙ্গে বসেছি। তারপরও কোনো সমাধান হয়নি।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বলেন, হাশেম আলী প্রতারণা করে জমি লিখে নিয়ে বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। তার মা আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসা করে দেয়া হয়। আগামী বৃহস্পতিবার হাশেম আলী তার বাবার নামে দুই শতক জমি লিখে দেবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে তার ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে দেব।

আসিফ ইকবাল/আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :