প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যশোরে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯

দেশদ্রোহী ও নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যশোরে মামলা হয়েছে।

রোববার সকালে যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য গোলাম মোস্তফা কামাল।

বাদীর আইনজীবী সৈয়দ কবীর হোসেন জনি জানান, অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্রিয়া সাহা দেশদ্রোহী ও নির্বাচিত সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। যার অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানকে গুম করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু জনগণ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’ প্রিয়া সাহা আরও বলেছেন, ‘আমি ঘর হারিয়েছি, আমার জমি নিয়ে নিয়েছে, বাড়ি-ঘরে আগুন লাগিয়েছে।’ প্রকৃতপক্ষে এসবের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তিনি মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

এরপর তিনি বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

ভিডিওতে দেখা গেছে, একপর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীল হয়ে এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।

প্রিয়া সাহা আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার কথোপকথন প্রকাশ পেলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

মিলন রহমান/এমবিআর/জেআইএম

টাইমলাইন