প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিযোগ দেয়া প্রিয়া সাহা ইস্যুতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার বাবার বাড়ি আমার নির্বাচনী এলাকায়। আমার এলাকায় কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক অসম্প্রীতি ঘটেনি। কোনো ধরনের ধর্মীয় নিপীড়নের ঘটনাও ঘটেনি। তাই কেউ প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবেন না।

রোববার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নিজের গ্রামের বাড়ি নাজিরপুর। নাজিরপুর থানার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আমি। আমার ইউনিয়নের চর বানিয়ারী গ্রামের প্রিয় বালা বিশ্বাসের নামক একজন ব্যক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কতগুলো অভিযোগ করেছেন। প্রিয় বালা বিশ্বাসের বাবার নাম নজেন্দ্রলাল বিশ্বাস। তিনি বিবাহ সূত্রে যশোরের অধিবাসী।’

আমি সেই এলাকার সংসদ সদস্য এবং একই এলাকার অধিবাসী হিসেবে দেশবাসীকে অভিহিত করছি যে, ‘প্রিয় বালা বিশ্বাসের বাসা চর বানিয়ারী গ্রামে হলেও এখানে তার নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বা বাড়িঘর নেই। তিনি এ গ্রামে বসবাসও করেন না। এ গ্রামে তার বাবার পৈত্রিক ও ভাইদের সম্পত্তি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার ভাই জগদীস চন্দ্র বিশ্বাস একজন অবসারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। বাড়িতে কেউ থাকেন না। একটি পরিত্যাক্ত ঘরে রাতে আগুন লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগদীস বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস নাজিরপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি এমন কী কাউকে সন্দেহ করেন এমন কোনো নামও উল্লেখ করেননি। এজাহারে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কোনো মৌলবাদিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এমন শঙ্কার কথাও বলা হয়নি।’

‘এ মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে। এছাড়া এ এলাকায় বলেশ্বর নদীতে চর জেগে উঠাই বলেশ্বরের দুই পাড়ের লোকেরা সরকারের খাস জমি দাবি করা নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি মামলা হয়েছে সে মামলার বাদী হচ্ছে কমলেশ বিশ্বাস।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ মামলায় কমলেশ বিশ্বাস হিন্দু-মুসলিম উভয় শ্রেণির লোককে আসামি করেছেন। সেটা একটা মারামারির ঘটনা। কোনোভাবেই আমার এলাকায় প্রিয় বালা সাহা অথবা প্রিয়া বালা বিশ্বাসের বাড়ি ঘর কেউ পুড়িয়ে দেয়নি। তার জমিজামা কেউ নেইনি। তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য থানায় মামলাও করেননি।’

তিনি বলেন, ‘প্রিয় বালা বিশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে তিন কোটি ৭০ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ‘ডিজঅ্যাপিয়ার’ হয়েছেন। আইনের ভাষায় ‘ডিজঅ্যাপিয়ার’ হচ্ছে গুম হওয়া। আমার নির্বাচনী এলাকা তথা প্রিয় বালা বিশ্বাসের বাবার বাড়ির এলাকায় অন্য ধর্মের একজন ব্যক্তিও গুম হয়নি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আমার এলাকা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকালের সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অপূর্ব নির্দেশনের একটি শান্তিপূর্ণ সহবাস্থানের এলাকা। এখানে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কখনো কেউ অবিচারের স্বীকার হন না।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রিয় বালা বিশ্বাস দেশের বাইরে গিয়ে যে অভিযোগটি করেছেন যে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, জামি নিয়ে নেয়া হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কোনো অসৎ পরিকল্পনা থেকেও তিনি এ জাতীয় অভিযোগ করতে পারেন।’

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্থানীয় প্রতিনিধি দ্বারা বা নিজেরাও অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন যে, আমার এলাকায় একজন হিন্দুও কোনোভাবে গুম হয়েছে এ জাতীয় অভিযোগের কোনো সত্যতা আছে কিনা। এ কারণেই পিরোজপুর জেলা পূজা পরিষদের সভাপতি বিমল মণ্ডল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি তুষার মজুমদার শনিবার বিবৃতি দিয়েছে যে, প্রিয় বালার এ বক্তব্যে সঙ্গে কেউ একমত নন। প্রিয় বালার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় বালা বিশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ করেছে যে, মুসলিম মৌলবাদীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এটাও অসত্য। আমার এলাকায় কোনো মৌলবাদীদের অবস্থান নেই। কাজেই প্রিয় বালার এ ধরনের অভিযোগে কেউ যেনো বিভ্রান্ত না হন সে আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন এ অভিযোগে বিভ্রান্ত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি বিনষ্ট না করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আবার ফাইদা লুটে নিতে পাল্টা মিছিল মিটিং না করেন সে আহ্বান জানান।’

গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেয়। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন সেখানে এক কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

এমইউএইচ/এএইচ/পিআর

টাইমলাইন