সাইক্লোন শেল্টারে যেতে চায় না মানুষজন, জোর করে নেয়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে মানুষ। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ জেলার ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে লোকজনের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে অনীহা রয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও সিপিপি’র কর্মীরা অধিক ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বিরামহীনভাবে মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে গতকাল শুক্রবার সারা দিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলে শনিবার ভোর থেকে বৃষ্টির গতি বাড়ে। দুপুর থেকে বইতে শুরু করেছে ঝড়ো হাওয়া। কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার মো. ইয়ামিন চৌধুরী দুপুরে সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে জানান, বরিশাল বিভাগে দুই হাজার ১১৪টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। যেখানে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনরক্ষার জন্যই তাদের জোর করে সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ উপকূলীয় বেশকিছু এলাকার মানুষ তাদের মালপত্র রেখে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে, তারা জনগণের মালামাল হেফাজতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবেন। উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে যেসব এলাকায় বাঁধ নেই, জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে সিপিপিসহ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো কাজ করছে।

barishal-People-have-begun-

বরিশাল নৌবন্দর থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ-পরবর্তী জরুরি সেবা দেয়ার জন্য ৩১৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগের সব জেলার সংশ্লিষ্ট সব দফতরগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সিটি কাউন্সিলরদের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

শনিবার দুপুরে নগরীর সদর রোডের অ্যানেক্স ভবনের চতুর্থ তলার সভাকক্ষে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক সভায় এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, চোখের সামনে কোনো দুর্যোগ দেখলে কারও নির্দেশনার অপেক্ষা এবং অর্থের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। পকেট থেকে খরচ করে কাজ এগিয়ে নেবেন, পরবর্তীতে এগুলো দিয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা সব প্রস্তুতি হাতে নিয়েছি। বিশেষ করে আমাদের কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ ও পানি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বাদ আসর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে এবং মন্দির ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করার জন্য মেয়র বলেছেন।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জাগো নিউজকে জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ জেলার ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, আনসার ও সিপিপি’র কর্মী, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রায় ১০ হাজার কর্মী অধিক ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও চাল মজুত করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সাইফ আমীন/এমএএস/এমকেএইচ

টাইমলাইন