আ’লীগে আরও মুরাদ-জাহাঙ্গীর আছে: প্রধানমন্ত্রীকে ত্বকীর বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ এএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত হত্যাকাণ্ড তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই আবরার হত্যার বিচার হয়েছে, আর প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন না বলেই ১০৫ মাস ধরে ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। হত্যা-গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিভিন্ন সময় সরকার ও সরকারি দল উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করেছে। দলে থাকলে নেতা-কর্মীদের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র হয়, আর দল থেকে বাদ পড়লেই আমরা জানতে পারি তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, আপনার দলে আরও অনেক মুরাদ-জাহাঙ্গীর আছে তাকিয়ে দেখেন। শামীম ওসমানের দিকে তাকান।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে শহরের ডিআইটি আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার ও নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মাসিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোম শিখা প্রজ্জ্বলনের আয়োজন করা হয়।

রফিউর রাব্বী বলেন, আজ আবরার হত্যার বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দুই বছর আগে বুয়েটের এ ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এ রায়ে এক আসামির বাবা আহাজারি করে কাঁদছেন আর বলছেন ‘আমার সন্তানকে যারা অপরাধী বানালো, খুনি বানালো তাদেরতো বিচার হলো না।’ তাই আমরাও বলতে চাই ত্বকীর হত্যাকারী কারা, র্যাব সেই বিষয়টি উন্মোচন করেছে হত্যার এক বছর যেতে না যেতেই। আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলে তার নেতৃত্বে ১১ জন ত্বকীকে হত্যা করেছে। কোন ১১ জন সেটাও তারা বলেছে। কিন্তু ত্বকী হত্যার যে নির্দেশদাতা সেই শামীম ওসমানকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। বিচারের আওতায় এনে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

ত্বকীর বাবা বলেন, র্যাবের তদন্তে যে আজমেরী ওসমানের নাম এসেছে আমাদের দাবি সেই আজমেরী ওসমানকে আইনের আওতায় এনে তার জবানবন্দি নিয়ে শামীম ওসমানকে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। নতুবা এ বিচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব সাংবাদিক হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সিপিবি জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, হাফিজুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, ন্যাপের জেলা যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম টিটু ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জেলা সদস্য সচিব প্রদীপ সরকার।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮ জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]