মা-ভাইকে হারিয়ে শীতলক্ষ্যার পাড়ে রেখার আহাজারি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ এএম, ২১ মার্চ ২০২২
মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে রেখার আহাজারি। ছবি: জাগো নিউজ

দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট সাফায়েত। বোন রেখা সবার বড়। ছোট দুই ভাইকে তাই অনেকটা মায়ের আদরে বড় করেছেন রেখা। রোববার শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে অতি আদরের ছোট ভাই সাফায়েত নিখোঁজ হয়। সঙ্গে রেখার মা আরিফাও।

লঞ্চডুবির খবর পেয়ে নদীর পাড়ে ছুটে আসেন রেখা ও তার স্বজনরা। আশায় ছিলেন হয়তো মা ও ছোট ভাইয়ের খোঁজ মিলবে। কেউ হয়তো বলবে- তোমার মা ও ভাই বেঁচে ফিরেছে।

তবে চার ঘণ্টার অপেক্ষা শেষে রেখার কানে ভেসে আসে, তার ভাই ও মায়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর। ছুটে যান মা আরিফা ও দুই বছর বয়সী ভাই সাফায়েতের মরদেহের কাছে। এসময় সেখানে কান্নার রোল পড়ে যায়।

মা ও ভাইয়ের মরদেহ আঁকড়ে রেখার সেই আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে শীতলক্ষ্যার পাড়। কারও সান্ত্বনায় থামছে না রেখার কান্না। মা ও ভাইকে হারিয়ে দিশেহারা মুন্সিগঞ্জের এ তরুণী।

রেখা মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার রমজানবেগ এলাকার দ্বীন ইসলামের মেয়ে। রোববার তার অসুস্থ দাদা আব্দুর রবকে নিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিলেন তার মা আরিফা বেগম। তার সঙ্গে ছিল দুই বছরের ছেলে সাফায়েত।

রেখার দাদাকে ডাক্তার দেখিয়ে লঞ্চে করে মুন্সিগঞ্জে ফিরছিল তার মা আরিফা। রোববার (২০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরার পথে শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে প্রথমে নিখোঁজ হন তারা। পরে সন্ধ্যার দিকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের কয়লাঘাট এলাকায় কার্গো জাহাজ ‘এমভি রূপসী-৯’ এর ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল আশরাফউদ্দিন’ ডুবে যায়। লঞ্চে ৪০-৫০ জন যাত্রী ছিল। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হোসেন্দি এলাকা সংলগ্ন মেঘনা থেকে ঘাতক জাহাজটিকে আটক করে গজারিয়া কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।