লোকবল সংকটে রাজবাড়ীর রেল, সেবা পেতে ভোগান্তি

রুবেলুর রহমান
রুবেলুর রহমান রুবেলুর রহমান , জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৩:৪৬ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

লোকবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থেকে পোড়াদহ রেল রুটে রাজবাড়ীর অংশের বেশ কয়েকটি স্টেশনের কার্যক্রম। ওইসব স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামার জন্য ট্রেন থামলেও স্টেশনমাস্টারের পাশাপাশি নেই টিকিট কাটার কোনো ব্যবস্থা। অনেক স্টেশনে নেই প্ল্যাটফর্ম, বিশ্রামাগার ও বাথরুমের ব্যবস্থা। এছাড়া দেখভালের অভাবে ভেঙে পড়েছে অবকাঠামো। এতে ট্রেনে যাত্রীর কমার পাশাপাশি একদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

দেশের রেলের উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থেকে পোড়াদহ রেল রুটে রাজবাড়ীর অংশে ৯টি স্টেশনের মধ্যে গোয়ালন্দ বাজার, সূর্যনগর, বেলগাছি ও মাছপাড়া এই চারটি স্টেশনে নেই মাস্টার ও টিকিট কাটার কোনো ব্যবস্থা। এছাড়া সূর্যনগর ও বেলগাছিতে প্ল্যাটফর্ম না থাকার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে অবকাঠামো।

jagonews24

এদিক, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ-পোড়াদহ, রাজবাড়ী-ভাঙ্গা, রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া, রাজবাড়ী-রাজশাহী রুটে প্রতিদিন পাঁচটি ট্রেন ১৪ বার আসা-যাওয়া করে। রাজবাড়ী থেকে ভাঙ্গা ৬৪ কিলোমিটার রেলপথে স্টেশন রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে স্টেশনমাস্টার আছে পাঁচটিতে। এ রুটে খানখানাপুর, বসন্তপুর, অম্বিকাপুর, ফরিদপুর কলেজ, বাখুন্ডা, তালমা ও পুকুরিয়া স্টেশনে মাস্টার নেই।

রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া ৯৪ কিলোমিটার রেলপথের ১৭টি স্টেশনের মধ্যে ৯টিতে কোনো মাস্টার নেই। এ স্টেশনগুলো হলো- রামদিয়া, আড়কান্দি, নলিয়া গ্রাম, ঘোড়াখালী, সাতৈর, বোয়ালমারী, সরাইল, বনমালীপুর ও ব্যাসপুর। এসব স্টেশনে বুকিং সহকারী পদও শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। বন্ধ থাকা এসব স্টেশনে শুধু ট্রেন থামে। নেই কোনো কার্যক্রম।

jagonews24

যাত্রী হিজবুল্লাহ জালালি, মোহাম্মদ হোসেন, মর্জিনা, মার্জান বেগমসহ কয়েকজন জানান, ট্রেনযাত্রা নিরাপদ ও সহজলভ্য। যে কারণে তারা নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করেন। দিনদিন সব কিছুর উন্নয়ন হয় কিন্তু সূর্য্যনগর ও বেলগাছি স্টেশন দুটির অবনতি হচ্ছে। স্টেশনে কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। টয়লেটের প্রয়োজন হলে আশপাশের বাড়িতে যেতে হয়। এছাড়া রোদ, ঝড়, বৃষ্টিতে বসার কোনো ব্যবস্থাও নেই। তাছাড়া সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ট্রেনে ওঠা-নামা। প্লাটফর্ম না থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের খুব কষ্ট হয়। সেইসঙ্গে স্টেশনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা না থাকায় ট্রেনের ভেতর থেকে টিকিট কাটতে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়েন। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে স্টেশনে মাস্টার নিয়োগসহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্লাটফর্ম তৈরির জন্য অনুরোধ জানান তারা।

স্থানীয়রা সাবেক মেম্বার তাইজুল ইসলাম তাজু বলেন, আগে সূর্য্যনগর ও বেলগাছিসহ রাজবাড়ীর প্রতিটি স্টেশন জমজমাট ছিল। কিন্তু এখন উল্টো চিত্র। স্টেশনে মাস্টার, পোটার, পয়েসম্যান নেই। বর্তমানে স্টেশনগুলোর পরিবেশ ভালো না। কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে অবকাঠামো।

jagonews24

তিনি বলেন, কখন ট্রেন আসে আর কখন যায়, কিছুই বোঝা যায় না। মালামাল লোড-আনলোড, টিকিট কাটা এবং যাত্রীদের বসা ও বাথরুমের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্লাটফর্ম না থাকায় নারী-শিশুদের ট্রেনে ওঠা-নামায় সমস্যা হয়। মাটি থেকে ট্রেনের উচ্চতা অনেক হওয়ায় যাত্রী ওঠা-নামার সময় অনেকে পড়ে আহত হয়। যার কারণে ট্রেনে যাত্রী ও মালামাল বহন কমছে। ফলে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সারাদেশে রেলের উন্নয়ন হলেও রাজবাড়ীতে হচ্ছে না। অবহেলিত হয়ে পড়ে রয়েছে স্টেশনগুলো। দ্রুত এসব স্টেশনের কার্যক্রম শুরু করে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল (পাকশী) বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, জনবল সংকটের কারণে বন্ধ থাকা স্টেশনে লোকবল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন করে নিয়োগ না হলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না। আর এ স্টেশনগুলো নতুন বন্ধ না, অনেক দিন ধরেই বন্ধ আছে।

এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।