থমথমে বসুন্ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০১৮

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলশান থানার এসআই সাহানুর, ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামানও রয়েছেন। এ ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর এখন বসুন্ধরা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সোমবার দুপুরের পর বসুন্ধরা গেটে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের এডিসি আব্দুল আহাদ জাগো নিউজকে জানান, পুলিশ শুরু থেকে আন্দোলনকারীদের থামানো ও বোঝানোর চেষ্টা করেছে। তারা প্রগতি সরণির রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সাধারণ মানুষের পরিবহনে ভাঙচুর, হামলা করে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

police

পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিকের গেটে অবস্থান নিয়েছে। এখন আটকের অভিযান চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে পুলিশ। গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ), ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশসহ (আইইউবি) বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বসুন্ধরা গেট দিয়ে বের হতে চাইলে পুলিশ তাদের গ্রামীণ ফোন (বি ব্লক) কার্যালয়ের সামনে আটকে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

police

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও থেমে থেমে গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে।

উল্লেখ্য, ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় নিহত হন মিম ও করিম নামে দুই শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহতও হন। এ ঘটনায় দিয়ার বাবা ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন। দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে ঢাকা শহরের সব রুটে কয়েকদিন বাস চলাচল বন্ধ রেখেছিলেন পরিবহন মালিকরা। সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

police

এরই মধ্যে শনিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্ররূপী বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

police

জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে গত দু’দিন। এসব ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বেশ ক’জন সাংবাদিক।

জেইউ/জেডএ/এমএস

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :