গণতন্ত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা

ফজলুল হক শাওন
ফজলুল হক শাওন ফজলুল হক শাওন , সায়েম সাবু সায়েম সাবু
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৮

লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, এমপি। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সাবেক মন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সরকারের অবস্থান নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ‘র। দীর্ঘ আলোচনায় গুরুত্ব পায় রাজনীতি, নির্বাচন প্রসঙ্গও। মতামত ব্যক্ত করেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে।

আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন ফজলুল হক শাওন ও সায়েম সাবু। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে দ্বিতীয়টি।

জাগো নিউজ : শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে নানা গুজবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার, বলছিলেন আগের পর্বে। পুলিশের সঙ্গে মিলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করলো, রক্তাক্ত করলো। এই হামলার ব্যাপারে কী বলবেন?

মুহাম্মদ ফারুক খান : ওই হামলার ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাগো নিউজ : এমন হামলা বহুবার ঘটিয়েছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিচার হয়নি বললেই চলে…

ফারুক খান : আমরা বহু অপরাধীর বিচার করেছি। অতীতে শাস্তি পাওয়ারও দৃষ্টান্ত আছে। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলাসহ অসংখ্য উদাহরণ আছে যেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা রক্ষা পাননি। সরকারদলীয় কোনো ব্যক্তি যদি জনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন এবং প্রমাণ মিললে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।

জাগো নিউজ : গুজবের ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিনেত্রী আটক হলো। অথচ সাংবাদিক, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা করা হলো। হামলাকারীদের ছবি, ভিডিও ফুটেজও আছে। এমনকি পুলিশের সঙ্গে থেকেই হামলা। তাদের কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা হলো না…

ফারুক খান : কারা হামলা করেছে, আমি জানি না। তবে দলের কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে আমি বিশ্বাস করি।

জাগো নিউজ : প্রতিটি আন্দোলনে গুজব, ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষ সাহস করে মাঠে নামতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক তথা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার কারণেই মানুষ ভিন্নভাবে আন্দোলন করতে চাইছে…

ফারুক খান : বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কোনো ঘাটতি নেই। বিশ্বের যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশের চাইতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন সুসংহত। গণতন্ত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা। সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করছে সরকার।

অপরদিকে বিরোধীপক্ষ নিয়ম মেনে সভা-সমাবেশ করলে কোনো প্রকার বাধা দেয়া হচ্ছে না। গত ১০ বছরে বিএনপি প্রায় ১০০’র মতো সমাবেশ করেছে। সমাবেশ থেকে সরকার, রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলেছে। কিন্তু কাউকে আটক করা হয়নি।

জাগো নিউজ : ঢাকায় তো এখন বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না…

ফারুক খান : সরকার নয়, অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। কী কারণে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি, তার নির্দিষ্ট কারণ লিখে দিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত সমাবেশের নামে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তার অনেক প্রমাণ আছে। নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে তো সমাবেশ করতে দেয়া যায় না। তবুও শতকরা পাঁচ ভাগ সমাবেশের অনুমতি বাতিল করেছে কি-না সন্দেহ আছে।

বিএনপি-জামায়াত সমাবেশের নামে নিজেরাও দ্বন্দ্বে জড়ায়। মারামারি, ভাঙচুর চালায়। তাদের রক্ষা করাও তো পুলিশের দায়িত্ব।

গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কোনো গণমাধ্যমকর্মী বা প্রতিষ্ঠানকে অযথা হয়রানি করা হয়নি, যদিও মিথ্যা সংবাদও পরিবেশন করছেন অনেকে।

জাগো নিউজ : গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণেরও অভিযোগ উঠেছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক মহলও…

ফারুক খান : আমি আন্তর্জাতিক মহলের কোনো অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তাদের গণতন্ত্র নিয়ে, দেশ নিয়ে আমরা তো নাক গলাচ্ছি না। তাহলে আমার দেশে কেন?

অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্র তুলনা করা যায় না।

জাগো নিউজ : কেন?

ফারুক খান : আমেরিকার গণতন্ত্র আর বাংলাদেশের গণতন্ত্র এক হতে পারে না। আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে আজ প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্পকে বিজয়ী করার পেছনে রাশিয়ার হাত আছে বলে কংগ্রেসে তা নিয়ে শুনানি হচ্ছে। এরপরও তো আমেরিকার রাস্তাঘাটে ওই নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের কোনো হাঙ্গামা হয়নি। গণতান্ত্রিকভাবেই তারা মোকাবিলা করছে। অথচ বাংলাদেশে! তারা আমাদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছে। পশ্চিমা গণতন্ত্র বাংলাদেশে চলে না।

পশ্চিমা গণতন্ত্র বাংলাদেশের জন্য এখনও উপযোগী নয়। পশ্চিমারা বড় বড় কথা বলে আরব বসন্ত আনলো। গণতন্ত্রের কথা বলে মিসরে কট্টর মৌলবাদীদের ক্ষমতায় আনলো। মৌলবাদীদের হটিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসলো।

জাগো নিউজ : সেনাবাহিনীর শাসন নিয়েও প্রশ্ন আছে। মানুষই কিন্তু ভোট দিয়ে মৌলবাদীদের ক্ষমতায় এনেছিল মিসরে…

ফারুক খান : আপনারা বিদেশিদের দেয়া প্রেসক্রিপশন নিয়ে প্রশ্ন করবেন না। যারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তারা বাংলাদেশের ভালো চায় না। বিদেশিদের কোনো মন্তব্য আমরা আমলে নিচ্ছি না। বিদেশি সংগঠনের অবস্থান নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথাও নেই।

জাগো নিউজ : গত নির্বাচনের পর বিদেশিদের সমর্থন চাইলেন। প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে পুরস্কারও নিচ্ছেন…

ফারুক খান : বিদেশিরা গণতন্ত্রের প্রশ্নে সীমা ছাড়িয়ে কথা বললে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে বলে যে দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে মানুষ হত্যা করে, সে দেশে অত গণতন্ত্রের দরকার নেই, যে গণতন্ত্র পশ্চিমে আছে।

অর্থের বিনিময়ে অথবা চাপে রাখার জন্য তারা আমাদের দেশ নিয়ে নানা প্রপাগান্ডা চালায়। বাংলাদেশের বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে হবে। বিদেশিদের চোখে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই, এই কথা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। যে কোনো সময়ের চাইতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন অধিক শক্তিশালী।

জাগো নিউজ : পশ্চিমাদের মতো গণতন্ত্র চাইছেন না। তাহলে কী এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চলছে?

ফারুক খান : তা হবে কেন? জনগণের নির্বাচিত সরকার দ্বারা দেশ পরিচালিত হচ্ছে। সরকার এবং স্থানীয় সরকার গঠন হয়েছে জনগণের ভোটের মাধ্যমেই।

জাগো নিউজ : কিন্তু সে নির্বাচন নিয়েও নানা বিতর্ক?

ফারুক খান : বিতর্ক করছেন কারা? পরাজিতরা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে আমেরিকাতেও। নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয় পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই। বিতর্ক থাকা মানেই হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র আছে।

স্থানীয় সরকারগুলোতে বিরোধী দলও নির্বাচিত হচ্ছে, ভোট পাচ্ছে।

জাগো নিউজ : গত কয়েক বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিতর্ক বেশি হয়েছে…

ফারুক খান : যারা হেরে গেছে, তারাই বিতর্ক করছে। নির্বাচন হলে বিতর্ক থাকবেই। গণতন্ত্র হচ্ছে এখানেই। আমাদের নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও নির্বাচন নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। দল যাকে সমর্থন দিয়েছে, সবাই তার পক্ষে কাজ করেছে। হানাহানি, গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।

জাগো নিউজ : গোলাগুলির ঘটনা বহু ঘটেছে। হতাহতও হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মারা গেছে…

ফারুক খান : বাংলাদেশের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কথা বলতে হবে। গোলাগুলি হয়েছে বিভিন্ন কারণে। নির্বাচনের ইতিহাস জানতে হবে। আমেরিকাতেও গোলাগুলি হচ্ছে। মানুষের স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলে বা কোনো বিষয় চাপিয়ে দিলেই দ্বন্দ্ব এবং হানাহানির ঘটনা ঘটে।

প্রায় ছয় হাজার নির্বাচন হয়েছে এই সরকারের আমলে। এর মধ্যে হয়তো ৬০টি নির্বাচনে গণ্ডগোল হয়েছে।

এএসএস/এমএআর/আরআইপি

দলের কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে তো সমাবেশ করতে দেয়া যায় না

চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে বলে যে দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে মানুষ হত্যা করে, সে দেশে অত গণতন্ত্রের দরকার নেই

যারা হেরে গেছে, তারাই বিতর্ক করছে। নির্বাচন হলে বিতর্ক থাকবেই

টাইমলাইন