চাঁদপুরে হাম সংক্রমণ
৪২ শয্যার বিপরীতে ১৪৭ শিশু ভর্তি, চাপ সামলাতে হিমশিম অবস্থা
চাঁদপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা। এতে করে জেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের অবকাঠামো ও চিকিৎসা সেবায় তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৪২টি শয্যার বিপরীতে ১৪৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। যার ফলে রোগীর চাপ সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি আলাদা ইউনিটে আইসোলেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ৩০ জন শিশুকে পৃথকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুরো জেলাজুড়েই স্বাস্থ্যসেবায় চাপ বেড়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শতাধিক শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যেখানে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি নমুনাগুলোর রিপোর্ট এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তৃতীয় তলার আইসোলেশন ওয়ার্ডে মান্নান হোসেন বলেন, আমার বাচ্চার ওয়ার্ড জ্বর, ঠান্ডা কাশি। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসলাম। চিকিৎসকরা হাম উপসর্গ থাকায় আলাদা রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে। রোগী অনেক চাপ, সিট নাই দেখে ফ্লরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, সারাদেশের মতো চাঁদপুর হামের আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তাদেরকে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ এবং সেবাকর্মী নার্স রয়েছে। অভিভাবকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা। হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের পরামর্শ থাকবে, অসুস্থ শিশুকে সুস্থ শিশু থেকে দূরে রাখা।
শরীফুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম