বরগুনায় হাম সন্দেহে ৮৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি, ৬২ জনের নমুনা ঢাকায়
বরগুনায় দিন দিন বাড়ছে হামে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা। এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে ৮৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। ৬২ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় বরগুনার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহে আরও আটজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদাভাবে ৩০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি করে মোট ছয়টি এবং বেতাগীতে একটি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সদর উপজেলার বাইরে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।

বরগুনার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রধান কাজ আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা। প্রাদুর্ভাব শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে ১৫ শয্যার দুটি আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও ১৫টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বরিশালে হাম শনাক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত ৬২ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে হাম আক্রান্ত কোনো রোগীর এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

হামের প্রথম উপসর্গই হচ্ছে জ্বর। একজন আক্রান্ত রোগী কমপক্ষে ১৮ জনকে আক্রান্ত করতে পারে উল্লেখ করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, কোনো শিশু জ্বর, সর্দি এবং কাশিতে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে অথবা হাসপাতালে ভর্তি রেখে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
নুরুল আহাদ অনিক/এসআর/এএসএম