ঢাকায় নেয়ার আগেই নুসরাতের শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে যায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ৩০ জুলাই ২০১৯
ফাইল ছবি

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় দায়ের করা মামলায় দুই চিকিৎসক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে উপস্থিত হয়ে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আরমান বিন আব্দুল্লাহ ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনীর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তাহের সাক্ষ্য দেন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় মঙ্গলবারের ধার্য তারিখে বিচারক, ডাক্তারসহ আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা থাকলেও দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার এ মামলার আরও আটজনের সাক্ষ্যপ্রদানে দিন ধার্য করেছেন আদালত। আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত বাদীসহ ৬৩ জনের সাক্ষগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আরমান বিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত ৬ এপ্রিল সকালে পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন ব্যক্তি একটি অগ্নিদগ্ধ মেয়েকে নিয়ে আসেন। তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। দেহের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার নাম নুসরাত জাহান রাফি পরে জানতে পারি। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই আমরা।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু তাহের বলেন, গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। তার শরীরের সত্তর থেকে আশি ভাগ পুড়ে গিয়েছিল। এ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করার সুযোগ না থাকায় জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেই। পরে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামি উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের কৌঁসুলিরা তাদের জেরা করেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বেচ্চ শাস্তি দাবি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রাশেদুল হাসান/এএম/জেআইএম

টাইমলাইন