নুসরাত হত্যার পর শামীমের মেজো ভাই আমাকে ফোন দেয়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৯

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বাদীসহ ৫১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার এক শিক্ষকসহ আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক সেলিমুর রেজা, মো. আবুল কাশেম, এমদাদ হোসেন পিংকেল ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী রোববার (২৮ জুলাই) আরও সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন মোশারেফ হোসেন, মো. গোলাম মাওলা, মনির হোসেন, ফেনীর জেল সুপার রফিকুল কাদের, কারারক্ষী মো. শাহনেওয়াজ, মো. রিপন ও ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা আদালতে সাক্ষ্য দেবেন।

বৃহস্পতিবার আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় এমদাদ হোসেন পিংকেল বলেন, ‘পড়ালেখা করার সুবাদে আমি রাজধানীর রামপুরায় বসবাস করি। গত ৮ এপ্রিল আমার বন্ধু এবং নুসরাত হত্যা মামলার আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের মেজো ভাই আমাকে ফোন করে জানান শামীম আমার সঙ্গে ঢাকায় দেখা করবে। আমি তাকে ফোন করতে বলি। সেদিন ফোন করে শামীম আমার বাসায় আসে। একটি মোবাইল আমাকে দিয়ে এটা রাখবার জন্য বলে। ২৮ এপ্রিল পিবিআই কর্মকর্তারা আমার বাসায় ওই মোবাইলটি জব্দ করে। এ সময় আমি জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করি।’

আরেক সাক্ষী স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান আদালতে বলেন, ‘গত ৪ মে পিবিআই কর্মকতারা আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে নিয়ে মাদরাসার পুকুর পাড়ে আসেন। এ সময় আমিও ছিলাম। শামীমের দেখানো মতে পুকুরের একপাশে কালো একটি বোরকা রয়েছে বলে পিবিআই কর্মকর্তা জানান। আমি পুকুর থেকে বোরকাটি উদ্ধার করি এবং জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করি।’

এদিন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক আবুল কাশেমও বোরকা উদ্ধারের সময় সেখানে ছিলেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ওই মাদরাসার আরেক শিক্ষক সেলিমুর রেজা আদালতকে বলেন, ‘গত ৫ মে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন আমাকে ৩৯৬ রোল নম্বরের পরীক্ষার্থীর একটি টেস্ট পরীক্ষার খাতা বের করে দিতে বলেন। আমি বের করে দিলে পিবিআই কর্মকর্তারা তা জব্দ করেন। মূলত, ওই খাতাটি ছিল নুসরাতের। তার পড়ার টেবিলে পাওয়া নোটের সঙ্গে হস্তলিপি মেলাতে টেস্ট পরীক্ষার খাতা জব্দ করা হয়।’

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রাশেদুল হাসান/এএম/এমকেএইচ

টাইমলাইন