নুসরাত হত্যায় বিচারকসহ পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ৩১ জুলাই ২০১৯

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় দায়ের করা মামলায় বিচারকসহ আরও পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তারা সাক্ষ্য দেন। এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত বাদীসহ ৬৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত বাদীসহ ৬৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন, রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার, সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিআইডির সহকারী ও রাসায়নিক পরীক্ষক রোমানা আক্তার ও পিবিআইয়ের ডিজিটাল ল্যাব পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বাদি আদালতে সাক্ষ্য দেন। বৃহস্পতিবার ১ আগস্ট এ মামলার আরও সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামি উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের কৌঁসুলিরা জেরা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন বলেন, গত ৬ এপ্রিলের ঘটনার পর বিভিন্ন সময় মামলার সাতজন আসামি আমার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আমি নিয়ম-কানুন মেনে সাত আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করি। এছাড়া মামলার ছয়জন সাক্ষীও আমার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার আরেক সাক্ষী রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার বলেন, আদালতের নির্দেশে গত ২ মে আমার কাছে কিছু আলামত পাঠানো হয়। এগুলো মধ্যে কালো রঙের তৈলাক্ত পলিথিন, সবুজ রঙের সুতি কাপড়ের সালোয়ারের পোড়া অংশ ও পাথরের পুঁতির কাজ করা কালো রঙের বোরকার পোড়া অংশ ছিল। রাসায়নিক পরীক্ষায় এসব আলামতে কেরোসিন জাতীয় দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

সহকারী পরীক্ষক নজরুল ইসলামেরও একই বক্তব্য হওয়ায় আদালত উভয়ের একই বক্তব্য হিসেবে তা লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া সিআইডির চট্টগ্রামের রাসায়নিক পরীক্ষাগারের সহকারী পরীক্ষক রোমানা আক্তারও আলামত সমূহের মধ্যে দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি পান বলে আদালতে জানান।

পিবিআইয়ের ডিজিটাল ল্যাবের পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বাদি বলেন, গত ২০ মে আদালতের নির্দেশে একটি সাদা ও সোনালী রঙের অপ্পো মোবাইল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আমি এটি পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেই। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে ওই মোবাইল সেটের বিষয়ে চারটি মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি ওই চার বিষয়ে মতামত প্রদান করি। এ সংক্রান্ত একটি সিডি আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বেচ্চ শাস্তি দাবি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রাশেদুল হাসান/এএম/পিআর

টাইমলাইন