প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩০ পিএম, ০১ জুন ২০২৩

‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য আজ ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বেশি।

এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫২তম বাজেট। আর আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪তম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের টানা পঞ্চম বাজেট।

নতুন অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরেছেন সাড়ে ৭ শতাংশ। আর বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ধীরে হলেও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিশেষ করে আমাদের বাণিজ্য ও প্রবাস আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দেশসমূহে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে মর্মে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৩ সালের এপ্রিল সময়ে প্রক্ষেপণ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্য, সার ও জ্বালানির মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসার সুবাদে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে বলেও আইএমএফ’র প্রক্ষেপণে প্রকাশ পেয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির অনুকূলে পরিবর্তন আমাদের জন্য আশার সঞ্চার করছে। একই সঙ্গে কোভিড পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পূর্ণ গতি সঞ্চার হয়েছে। এছাড়াও অর্থবছরের শেষাংশে কৃষিখাতে ভালো ফলন আসছে। যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে উৎপাদশীল খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এবং সুসংহত অভ্যন্তরীণ চাহিদার কল্যাণে পূর্বের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসব ও সাড়ে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবো বলে আশা করছি। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা ক্রমান্বয়ে কৃচ্ছ্র সাধন নীতি থেকে বের হয়ে এসে মেগাপ্রকল্পসহ প্রবৃদ্ধি সঞ্চারক চলমান ও নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করবো। এ উদ্দেশ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করে জিডিপি’র ৬ দশমিক ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ তৈরি, যেমন নিষ্কণ্টক জমি, উন্নত অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি, আর্থিক প্রণোদনা ও সহজ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধাসহ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান অব্যাহত থাকবে। লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সংস্কারের ফলে বিনিয়োগ/ব্যবসা প্রক্রিয়াকরণে সময়, ব্যয় ও জটিলতা হ্রাস পাবে।

‘ফলে চলতি বছরে কিছুটা হ্রাস পাওয়া বেসরকারি বিনিয়োগ আমামী বছরে বৃদ্ধি পেয়ে জিডিপি’র ২৭ দশমিক ৪০ শতাংশ হবে মর্মে আশা করছি। উল্লেখ্য পরিসংখ্যান ব্যুরো ত্রৈমাসিক জিডিপির হিসাব/উপাত্ত প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির নিয়ামক উপাদানসমূহের গতিধারা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নীতি-কৌশলে সমন্বয় সাধন জহজ হবে।’ বলেন মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও সারের মূল্য কমে আসা, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় এবং খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারি উদ্যোগের প্রভাব আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে বলে আশা করছি।

এমএএস/ইএ/এএসএম

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।