হাম-রুবেলার টিকার তারিখ পার হয়ে গেলে কী করবেন?
কেরানীগঞ্জের আঁটি মডেল টাউনের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তার সন্তানকে দ্বিতীয় ডোজের এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দিতে পারেননি। সম্প্রতি, আতঙ্কিত হয়ে যান নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে। তারা জানিয়েছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে। আপনার বাচ্চার বয়স যেহেতু পাঁচ বছরের বেশি হয়ে গেছে, এখন আপনি নিজ অর্থায়নে কিনে দিতে পারেন। যেই কথা সেই কাজ। তিনি নিজের টাকায় টিকা দিয়ে আসছেন।
মফিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘টাকা নিয়ে সমস্যা নয়। যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, টিকা দিতে পারছি এটাই স্বস্তি।’
শুধু মফিজুল ইসলাম নয়, অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে পড়েন। বিশেষ করে, এমআর প্রথম ডোজটি বাচ্চার নয় মাসে, দ্বিতীয় ডোজ ১৬ মাসে দেওয়া হয়। এরপর আর শিডিউলে কোনো টিকা নেই। দুই ডোজের মধ্যে সময় ব্যবধান এবং পরে আর টিকা না থাকায় শেষ ডোজটির সময় ভুলে যান অনেকে। আবার বাচ্চার জ্বর বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে টিকা দেওয়া যায় না। তখন করণীয় কী? এমন প্রশ্ন সবার।
এক্ষেত্রে পরামর্শ
দেরি না করা: ভুলে গেলে বা মিস হলে যত দ্রুত সম্ভব টিকাদান কেন্দ্রে বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
নতুন তারিখ নেওয়া: স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন সময়সূচি (ক্যাচ-আপ শিডিউল) তৈরি করে বাকি টিকাগুলো দিন।
ডোজের ধারাবাহিকতা: আগের কোনো ডোজ বাদ পড়ে থাকলে তা পরবর্তী ডোজের সঙ্গে বা আলাদাভাবে দেওয়া যাবে, এ বিষয়ে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
ভ্যাকসিন কার্ড: টিকা দেওয়ার সময় আগের কার্ডটি সঙ্গে রাখুন।
ভয় পাবেন না: কোনো কারণে দেরি হলেও টিকা দেওয়া প্রয়োজন, এতে শিশু মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়। দেরি হলেও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবশ্যই টিকা সম্পন্ন করুন।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কর্মসূচির উপ-পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘টিকা শিডিউল বা তারিখ ভুলে গেলে পাঁচ বছরের নিচে হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকা দিতে পারবেন। পাঁচ বছরের বেশি হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকা দেওয়ার এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি নেই। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিতে পারবেন।’
এসইউজে/ইএ