বেশিরভাগ সময় গেটে ঝোলে তালা, আসে না পাঠক
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। তার নামে নিজ জেলা ভোলা সদর উপজেলার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তাফা কামাল নগরে গড়ে উঠেছে একটি গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। ২০০৮ সালের ৩ মে এটি স্থাপিত হলেও বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি। আসে না দর্শনার্থী। বেশিরভাগ সময় এটি তালাবদ্ধ থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশের গেট তালাবদ্ধ। চোখে পড়লো কোনো দর্শনার্থী। কয়েক ঘণ্টা পর তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক মো. রাশেদ।
ভেতরে দেখা গেলো সব কিছু জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ১১টি আলমারিতে সাজানো আছে বিভিন্ন ধরনের বই। তবে চারটি আলমারিই ভাঙা। কিছু চেয়ার-টেবিল ও ফ্যান নষ্ট।

জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক রাশেদ জানান, শুরু থেকেই এখানে কর্মরত আছেন। শুরুতে দৈনিক ১২০ টাকা বেতনে চাকরি করছেন। এখন তা বেড়ে দৈনিক ৭০০ টাকা হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে শুরুর দিকে বেশ কয়েক বছর জমজমাট ছিল। কিন্তু এরপর বেশি কয়েক বছর ধরেই এটা জমজমাট নেই। সপ্তাহে ২-৪ জন ঘুরতে আসেন। কিন্তু বই পড়তে আসেন না তেমন কেউ।
আরও পড়ুন:
৪২০ নিদর্শনে সুলতানি আমলের হাতছানি
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘরে নেই কোনো স্মৃতিচিহ্ন
ফসিল থেকে একতারা—সবই আছে, নেই শুধু দর্শনার্থী
হাজার নিদর্শনের জাদুঘরে দিনে দর্শনার্থী আসে মাত্র ২৫-৩০ জন
তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের কারণে তাকে একাই অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। যে কারণে কোনো কোনো দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা সম্ভব হয় না।
‘দেখার মতো কিছুই নেই এখানে। একজন আসবে ঘুরে ঘুরে দেখবে কিন্তু দেখার নেই কিছু। যেসব বই রয়েছে তা পুরোনো। এক বই একবারের বেশি তো কেউ পড়ে না। ফলে মানুষ এখানে একবার এলে আর আসে না। সরকার যদি এটি উন্নত করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে প্রাণ ফিরে পাবে জাদুঘর’
রাফিয়া জাহান ও ঝুমুর আক্তার নামের দুই শিক্ষার্থী জানান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে তারা আগে মাঝেমধ্যে আসতেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময় এটি বন্ধ থাকে। যেসব বই রয়েছে তা পুরোনো। যে কারণে তারা আর এখানে আসেন না।

দর্শনার্থী নুর উদ্দিন ও হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্মৃতিঘরের আসবারপত্র, বই সবকিছুই পুরোনো। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এটাতে আধুনিকায়ন জরুরি। তাহলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে।’
মোস্তফা নগরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফিরোজ। জাদুঘরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ফিরোজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেখার মতো কিছুই নেই এখানে। একজন আসবে ঘুরে ঘুরে দেখবে কিন্তু দেখার নেই কিছু। যেসব বই রয়েছে তা পুরোনো। এক বই একবারের বেশি তো কেউ পড়ে না। ফলে মানুষ এখানে একবার এলে আর আসে না। সরকার যদি এটি উন্নত করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে প্রাণ ফিরে পাবে জাদুঘর।’
জাদুঘরটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আলীনগর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাজাহান গাজী।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের এমন কিছু রাখা হয়নি যে বর্তমান প্রজন্ম সহজে সেখানে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেত পারবে। মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি বই ছাড়া কিছু নেই। বিষয়টি দুঃখজনক। জাদুঘরে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের একটি ছবি ও প্লেট ছাড়া কিছু নেই।’
শাজাহান গাজী বলেন, ‘এখানে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের অনেক কিছু থাকা উচিত ছিল। বর্তমান সরকার সংসদে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে কর্নার করেছে। আশা করি, সরকার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের উন্নতির দিকে নজর দেবে।’
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের আধুনিকায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আধুনিকায়ন করা হলে এখানে দর্শনার্থী ও পাঠকদের সংখ্যা বাড়বে।
এসআর/এএইচ/জেআইএম