ভূঞাপুর সড়কের ব্রিজগুলো যেন মরণ ফাঁদ


প্রকাশিত: ০৬:০৭ এএম, ২০ জুলাই ২০১৬

টাঙ্গাইলের তারাকান্দি সড়কের এলেঙ্গা থেকে ভূঞাপুর পর্যন্ত ব্রিজগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না করায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সহসাই হচ্ছে না কোনো মেরামত। আতঙ্কে চলছে সাধারণ মানুষ আর যান চলাচল।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালিহাতী উপজেলাধীন সড়কের ফুলতলা, সামপুর, নারান্দিয়া এবং মতিন কলেজ সংলগ্ন ব্রিজ কয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ফুলতলা ব্রিজের দুইপাশের রেলিং ভাঙা, সামপুর ব্রিজের কয়েকটি স্টিলের পাটাতন উঠে গেছে, নারান্দিয়া এবং মতিন কলেজ সংলগ্ন ব্রিজ দুটোর অবস্থা একবারে নাজুক। এছাড়া সিঙ্গুরিয়া, শিয়ালকোল ও কাগমারিপাড়া ব্রিজেরও একই অবস্থা।

Brice

এলেঙ্গা ভূঞাপুর সড়ক দিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ঘাটাইল ও ভূঞাপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাফেরা করেন। এছাড়া তারাকান্দি সার কারখানার মালবাহী যান চলাচলের প্রধান সড়ক এটিই। অনেক সময় উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন এবং বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দও এই রাস্তায় চলাচল করেন।

ট্রাকচালক আব্দুল হালিম অভিযোগ করে বলেন, মাল নিয়ে এই ব্রিজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জোরে ঝাকুনি দেয়। মনে হয়, ব্রিজ ভেঙে পড়বে। সেসময় খুব ভয় হয়। তবে এ অবস্থা স্বত্তেও ব্রিজগুলো মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেই। এ উপজেলায় মন্ত্রী, এমপিসহ অনেক নেতা-নেত্রী থাকা স্বত্তেও এ অবস্থা পরিবর্তন না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

টাঙ্গাইল থেকে নলিনগামী এক বাসযাত্রী রমজান আক্ষেপ করে বলেন, এই সড়ক দিয়ে এতো বড় বড় মানুষ যাতায়াত করেন অথচ তারা দেখেন না। যখন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটবে অনেক মানুষ মারা যাবে তখন ব্রিজগুলো ঠিক হবে, এর আগে নয়।

Brice

তিনি আরো বলেন, একাধিক ব্রিজের সামনে `ঝুুঁকিপূর্ণ` লেখা সাইনবোর্ড টাঙিনো হয়েছে ঠিকই। তবে বৃহত্তর স্বার্থে ব্রিজগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।  

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম নূর ই আলম জানান, টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের ১০টি ব্রিজ, ১টি কালভার্ট এবং ২১ কিলোমিটার রাস্তা চওড়া করার জন্য ১শ ১৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বেশকিছু দিন আগে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে। কিন্তু কবে নাগাদ তা অনুমোদন হবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।