বিয়ের বাড়তি খাবার ফ্রিজে রাখছেন, যেসব ভুলে হতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: এআই

বিয়ে মানেই খাবারের বিশাল আয়োজন। আনন্দের শেষে প্রায় সবার ঘরেই কিছু না কিছু খাবার বেঁচে যায়। অনেকেই ভাবেন-ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখলেই নিশ্চিন্ত। কিন্তু সামান্য কিছু ভুলে সেই খাবারই হয়ে উঠতে পারে অসুস্থতার কারণ। খাবার নষ্ট হয়ে বিষক্রিয়া হওয়ার পেছনে বেশিরভাগ সময় দায়ী থাকে ভুল সংরক্ষণ পদ্ধতি। তাই ফ্রিজে রাখার আগেই কিছু বিষয় জানা জরুরি।

১. বাইরে খাবার বেশি সময় রেখে দেওয়া
অনুষ্ঠানের খাবার অনেক সময় খোলা অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ বাইরে পড়ে থাকে। পরে শেষ মুহূর্তে সেগুলো ফ্রিজে তুলে রাখা হয়। চিকিৎসকদের মতে, খাবার যত বেশি সময় ঘরের তাপমাত্রায় থাকে, তত দ্রুত তাতে জীবাণু জন্মাতে পারে।

বাড়তি খাবার রাখতে হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফ্রিজে ভরে দেওয়া উচিত। বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে খাবার তুলনামূলক নিরাপদ থাকে এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

২. গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা
অনেকে রান্না শেষ করেই গরম খাবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেন, আবার কেউ দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য ডিপ ফ্রিজে রেখে দেন। এই অভ্যাসও ঝুঁকিপূর্ণ। হঠাৎ করে তাপমাত্রার বড় পরিবর্তন খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি নয়। খাবার আগে স্বাভাবিক ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা হতে দিন। তারপর ঢেকে ফ্রিজে রাখুন। এতে খাবারের গুণগত মান ও নিরাপত্তা দুটোই বজায় থাকে।

৩. বারবার গরম করা ও ফ্রিজে তোলা
ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে প্রয়োজনমতো খান, তারপর বাকি অংশ আবার ফ্রিজে রেখে দেওয়া-এভাবে বারবার গরম করা একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়।একটি খাবার বারবার বাইরের তাপমাত্রা ও ঠান্ডার মধ্যে গেলে জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যতটুকু খাওয়ার প্রয়োজন, ততটুকুই একসঙ্গে গরম করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

৪. খাবার খোলা পাত্রে রাখা
খাবার খোলা পাত্রে রেখে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়াও বিপজ্জনক। এতে বাতাসের সঙ্গে থাকা জীবাণু সহজেই খাবারে ঢুকে পড়ে। পাশাপাশি ফ্রিজের ভেতরের অন্যান্য খাবারের গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়াও মিশে যেতে পারে। ঢাকনাযুক্ত বক্স বা এয়ারটাইট কনটেইনার ব্যবহার না করলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

৫. বেশি সময় রেখে দেওয়া
ফ্রিজে রাখলেই খাবার চিরকাল ভালো থাকবে,এমন ধারণাও ভুল। রান্না করা মাছ, মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি বা কাবাব সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। এর বেশি সময় রেখে দিলে চোখে বা গন্ধে বোঝা না গেলেও খাবারের ভেতরে ক্ষতিকর জীবাণু তৈরি হতে পারে, যা ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হয়।

৬. যেসব খাবারে ঝুঁকি বেশি
যেসব খাবারে পানির পরিমাণ বেশি, সেগুলো দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। রান্না করা মাংস, মাছ, পাস্তা, ঝোলজাতীয় তরকারি, তরল দুধ-এই খাবারগুলোতে জীবাণুর আক্রমণ দ্রুত হয়। তাই এগুলো সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকা দরকার।

৭. অবহেলা নয়, সচেতনতা জরুরি
অনেকে পেটখারাপ বা অস্বস্তিকে খুব সাধারণ বিষয় বলে মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যে বিষক্রিয়া কখনো কখনো শরীরের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই শুরু থেকেই খাবার সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিডিসি ফুড সেফটি

আরও পড়ুন:
শীতে শরীর গরম রাখে যেসব খাবার 
শীতে যাদের ফুলকপি-বাঁধাকপি না খাওয়াই ভালো

এসএকেওয়াই/

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।