ভিড়, হাঁটা আর কেনাকাটা, মেলায় যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা মানেই নতুন পণ্যের খোঁজ, কেনাকাটার আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। কিন্তু সেই আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে হলে বাস্তব চিত্রটা জানা জরুরি। ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, যানজটের কারণে দীর্ঘ পথ হেঁটে মেলায় পৌঁছানো, টিকিট কাটার লাইনে সময় নষ্ট, এসবই এখন মেলায় যাওয়ার স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার অংশ। তাই হুট করে বেরিয়ে পড়ার আগে একটু প্রস্তুতি আর সচেতনতা থাকলে মেলার দিনটা হতে পারে অনেক বেশি স্বস্তির ও উপভোগ্য।
রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আবারও বসেছে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বছরের শুরুতেই এই মেলা ঘিরে ক্রেতা, দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। ৩ জানুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এবারের মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে পঞ্চমবারের মতো একই ভেন্যুতে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে সাজানো এই আয়োজন মূলত দেশীয় পণ্যের প্রচার, রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যেই।

এবারের মেলার বিশেষত্ব
প্রতিবছরের মতো এবারও একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরে সেই সম্মান পেয়েছে পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং শিল্প। রপ্তানি সম্ভাবনাময় এই খাতকে উৎসাহিত করতেই মূলত এই ঘোষণা। দেশের উদীয়মান শিল্পগুলোর দিকে নজর দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক উদ্যোগ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা, শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা পরিচয়পত্র দেখালে বিনা মূল্যে প্রবেশ করতে পারছেন, যা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
আরও পড়ুন:
- শিশুর খেলনা কেনার আগে সতর্ক থাকুন
- শীতের হাওয়ায় গুলিস্তানের ফুটপাতে উষ্ণতার খোঁজ
- যে হাটে সংসারের গল্প বিক্রি হয় রঙিন পসরা সাজিয়ে
ছুটির দিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা
তবে আয়োজন যতই বড় হোক, বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক সময় ভিন্ন ছবি দেখায়। ২৪ জানুয়ারি শনিবার মেলায় ঘুরতে গিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে বহু দর্শনার্থীকেই। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বাস থেকে নামতে হয়েছে মেলার মূল প্রবেশপথ থেকে প্রায় ১৫ মিনিট হাঁটার দূরত্বে।

টিকিট কাউন্টারেও ছিল দীর্ঘ লাইন। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে টিকিট কেটে, ঠেলাঠেলি সামলে কোনোভাবে মেলায় প্রবেশ করতে হয়েছে। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই ভিড় সামলানো ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।
কেন এই ভোগান্তি?
পূর্বাচল নতুন শহর হলেও এখনো পর্যাপ্ত গণপরিবহন ও পার্কিং ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। বড় আয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় ছুটির দিনে এই ভোগান্তি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি প্রবেশপথ ও টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

মেলায় যাওয়ার আগে জেনে রাখুন
- সম্ভব হলে কর্মদিবসে যান: ভিড় তুলনামূলক কম থাকে।
- সকালবেলা প্রবেশ করুন: তখন যানজট ও টিকিট লাইনের চাপ কম থাকে।
- হালকা ব্যাগ ও আরামদায়ক পোশাক পরুন: দীর্ঘ সময় হাঁটতে হতে পারে।
- শিশু ও বয়স্কদের জন্য সতর্ক থাকুন: ভিড়ের সময় আলাদা নজর প্রয়োজন।
- পছন্দের স্টল আগে ঠিক করুন: অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি এড়ানো যাবে।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মাঝখানে
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নিঃসন্দেহে দেশের অর্থনীতি, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে দর্শনার্থীদের স্বস্তির বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। যাতায়াত, টিকিটিং ও ভিড় ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে এই মেলা হয়ে উঠতে পারে সত্যিকারের উৎসবমুখর অভিজ্ঞতা।
মেলা মানেই শুধু কেনাকাটা নয়; এটি শেখার, দেখার ও দেশের শিল্পখাতকে কাছ থেকে জানার সুযোগ। সেই সুযোগ যেন ভোগান্তিতে ম্লান না হয়ে যায়, সেটাই এখন সবার প্রত্যাশা।
জেএস/