এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনে থাকবে ক্যাসিনো : পর্যটন সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনে বিদেশিদের জন্য ক্যাসিনো থাকবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সচিব এ কথা জানান। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীও উপস্থিত ছিলেন।

সচিব বলেন, ‘যে ক্যাসিনো নিয়ে আজকে অনেক কথা হচ্ছে, ক্যাসিনো কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য দরকার। মালয়েশিয়ায় কিন্তু ক্যাসিনো আছে, সেখানে কিন্তু পাসপোর্ট দিয়ে ক্যাসিনোতে ঢুকতে হয়। আমরা তো তাদের জন্য এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না। আমরা যেখানে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন করব, সেখানে বিদেশিদের জন্য এসব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন যে সরকারের উদ্যোগ (ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান) আমি তার সাথে কোনো দ্বিমত পোষণ করছি না। সরকারের উদ্যোগের সাথে সম্পূর্ণ একমত। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি বিদেশিদের জন্য, যেখানে শুধু পাসপোর্ট দিয়েই তারা যাবে। আমি এ কথাটাই বলতে চাচ্ছি।’

‘আমরা পর্যটকদের জন্য এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে চাই। যেখানে তারা পাসপোর্ট দিয়ে যাবে। বর্তমানে ঢাকায় ক্যাসিনোতে যে অভিযানগুলো চলছে এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আমি মনে করি সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে।’

আমরা ব্যাংককের মতো বিদেশিদের জন্য নাইট ক্লাব-ক্যাসিনোর দিকে যাব কিনা- জানতে চাইলে পর্যটন সচিব বলেন, ‘আমি যেটা মনে করি বিদেশি পর্যটকদের জন্য যদি আমরা কোনো এক্সক্লুসিভ জোন করি, পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশে যেসব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান আছে, বাংলাদেশেও সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে আমার তো মনে হয় কোনো অসুবিধা নেই। হতেই পারে।’

পর্যটন খাতের জন্য হচ্ছে মহাপরিকল্পনা

প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমার বিশ্বাস পর্যটনের ক্ষেত্রে কর্মসূচিগুলো স্বার্থক হবে। ইতোমধ্যে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে বুয়েটের প্রতিনিধি দল জরিপ করেছে। তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সেখানে পর্যটক বিশেষ করে বিদেশি পর্যটক যাতে আকৃষ্ট করে এবং বিদেশি বড় বড় ক্রুজ শিপগুলো ইকো ট্যুরিজম উপভোগ করতে পারে সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খুব দ্রুত নেব। সে ব্যাপারে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। কক্সবাজারে পর্যটনের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের পথে।’

তিনি বলেন, ‘এর বাইরেও সারাদেশে একটা মাস্টার প্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে। সেই মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে যতো দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করব। মাস্টার প্ল্যান এখনও চূড়ান্ত হয়নি, চূড়ান্ত হলেই কাজ শুরু হবে।’

বিমান ও পর্যটন সচিব বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস এবার আমরা একটু ঢাকার বাইরে নিয়ে গেছি। আমরা ৬৪ জেলাতেই কর্মসূচি নিয়েছি। কিন্তু যেখানে পর্যটকেরা যাচ্ছে সেখানকার মানুষদেরকেও সহনশীল আচরণ করতে হবে, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তারাও সাহায্য-সহযোগিতা চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যটনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারিনি, কিন্তু এই মুহূর্তে রাখতে চাই। সত্যিকার অর্থে পর্যটন নিয়ে আমাদের কোনো কর্মপরিকল্পনা ছিল না। আমরা এখন পর্যটনে একটা মাস্টার প্ল্যান প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। এ মাসের মধ্যে আমরা ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দেব।’

‘আমরা অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম তৈরি করে ফেলেছি, আশা করছি ২-৩ মাসের ভেতর এটা বাস্তবায়ন করব। তাহলে আমাদের বিমানবন্দর এবং স্থলবন্দরের মাধ্যমে কতজন দেশি পর্যটক আসছে বা যাচ্ছে তার চূড়ান্ত পরিসংখ্যান দিতে পারব।’

গত বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটক দেড় থেকে দুই লাখ বেড়েছে বলেও জানান মহিবুল হক।

বাংলাদেশে পর্যটক কেন আসবে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমাদের কিন্তু পর্যটন স্পট আছে, আকর্ষণ আছে। সেগুলোকে কিন্তু আমরা পণ্য হিসাবে তুলে ধরতে পারিনি। যেমন- আমাদের সুন্দরবন আছে, সুন্দরবন কিন্তু পৃথিবীতে দ্বিতীয়টা নেই। কিন্তু আমরা কি পর্যটকদের জন্য সেখানে কোনো ব্যবস্থা করতে পেরেছি, পারিনি। সেই কারণেই আমরা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় স্পট বাছাই করে নিয়েছি; আমরা বিদেশি পর্যটকদের জন্য এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন সেখানে আমরা করব।’

কক্সবাজারেও এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন করা হবে জানিয়ে পর্যটন সচিব বলেন, ‘একইভাবে তিন পার্বত্য জেলাকে নিয়ে স্ট্যাডি করছি, সেখানে পর্যটকদের জন্য কী সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায়- আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের জন্য কোনো আইন এবং ট্যুর গাইডদের জন্য কোনো নীতিমালা নেই জানিয়ে সচিব বলেন, ‘আমরা এগুলো তৈরি করেছি। আশা করছি নভেম্বরের ভেতরে গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে যাবে।’

আরএমএম/এসএইচএস/এমকেএইচ

টাইমলাইন