রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ‘ক্যাসিনো খালেদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কৃত খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গুলশান থানার অস্ত্র মামলায় চারদিনের রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তে এ তথ্য যথেষ্ট সহায়ক হবে। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অস্ত্র মামলায় চারদিনের রিমান্ড শেষে খালেদকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। গুলশানের মাদক মামলায় তার বিরুদ্ধে মঞ্জুরকৃত তিনদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে আজ একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুল হক। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদক মামলায় রিমান্ডে নেয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফজলুল হক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, গুলশানের অস্ত্র মামলায় আসামি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে চারদিনের রিমান্ডে পেয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী টিমে নিবিড়ভাবে মামলা-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ করি। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে গুলশান থানায় করা অস্ত্র মামলা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তে যথেষ্ট সহায়ক হবে। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যসহ নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুলশান থানার মাদক মামলায় ১৯ সেপ্টেম্বর খালেদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অস্ত্র মামলার রিমান্ড শেষে মাদক মামলায় মঞ্জুরকৃত রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় সাতদিনের রিমান্ডে যুবলীগ নেতা খালেদ হোসেন ভূঁইয়াকে নেয়া হয়। অস্ত্র মামলায় চারদিন এবং মাদক মামলায় তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

ওইদিন রাতেই তাকে আদালতে তুলে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় সাতদিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। অন্যদিকে খালেদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা চারদিন এবং মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওই সময় জানান, তার এ রিমান্ড পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই দুই মামলায় খালেদকে মোট সাতদিন জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, খালেদের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাবের পক্ষ থেকে গুলশান থানায় মামলাগুলো করা হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান-২ এর নিজ বাসা থেকে খালেদ মাহমুদকে আটক করা হয়। র্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জাগো নিউজকে বলেন, আটক খালেদকে র্যাব-৩ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে দুই থানায় চার মামলা দায়ের করা হয়।

আটকের সময় খালেদের বাসা থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা, লকার থেকে ১০০০, ৫০০ ও ৫০ টাকার বেশ কয়েকটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। সেগুলো গণনার পর ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ডলারেরও বান্ডিল পাওয়া যায়। টাকায় তা ৫-৬ লাখ টাকা হবে বলে জানায় র্যাব। এ ছাড়া তার কাছ থেকে তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। যার একটি লাইসেন্সবিহীন, অপর দুটি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে রাখা হয়েছিল।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে মতিঝিলের ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয়টি মতিঝিল থানা পুলিশ, মতিঝিল জোন, পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপি সদর দফতরের কর্মকর্তারা জানতেন বলে দাবি করেন খালেদ। তবে পুলিশের সঙ্গে ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য কোনো আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি তিনি।

সূত্র জানায়, খালেদের ক্যাসিনোর বিষয়ে পুলিশ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সংস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জানতেন। তাদের ‘ম্যানেজ করে’ ক্যাসিনো চালাতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তিনি।

ইতোমধ্যে খালেদকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেএ/জেডএ/এমএস

টাইমলাইন