বাজেট প্রত্যাখ্যান বাম গণতান্ত্রিক জোটের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ১৩ জুন ২০১৯

বর্তমান ভোট ডাকাতির সংসদের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে দাবি করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমন দাবি করেন জোট নেতারা।

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ ও পরিচালনা পরিষদের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামান, শাহ আলম, সাইফুল হক, মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, জোনায়েদ সাকি, মোশাররফ হোসেন নান্নু, মোশরেফা মিশু, হামিদুল হক, শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, আকবর খান, ফিরোজ আহমেদ সংবাদপত্রে দেয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেন।

প্রতিক্রিয়ায় নেতারা বলেন, জনগণের ভোট ছাড়া গায়ের জোরে ক্ষমতাসীন এ সরকারের এবারের বাজেট পূর্বের মতোই গতানুগতিক, ঋণনির্ভর ও ঘাটতি বাজেট।

বিবৃতিতে বলা হয়, এবারের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা আদায় করা হবে কীভাবে তার নির্দেশনা নেই। গতবারের অভিজ্ঞতা বলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আদায় যোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাজেটে ৪ স্তরের যে নতুন ভ্যাট আইন প্রণয়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে গ্রাহক ভোক্তা হয়রানি বাড়বে। সেইসঙ্গে কর আদায়ে জটিলতা বাড়বে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবারের মতো এবারও পোশাক শিল্পে পূর্বের ৩৬০০ কোটি টাকার সঙ্গে নতুন করে ২৮২৫ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করা হলেও গার্মেন্টস শ্রমিক ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের রেশনে কোনো থোক বরাদ্দ রাখা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা খাতে ১৬.৫% বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে এটা সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, মাদরাসা শিক্ষা, ক্যাডেট কলেজ, সামরিক শিক্ষা এবং ২৮ মন্ত্রণালয়ের ট্রেনিংকে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। এতে বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা শুভঙ্করের ফাঁকি। কৃষি খাতের যে বরাদ্দ তাও কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ভূমি, বন ও পরিবশে, পানিসম্পদ এ ৫ মন্ত্রণালয়ের যৌথ বরাদ্দ।

বিবৃতিতে বাম নেতারা বলেন, ঋণনির্ভর এ বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই বাজেটের এক বড় অংশ চলে যাবে। ধনীকে আরও ধনী করার এবং গরিবকে আরও গরিব করার এ গণবিরোধী বাজেট প্রত্যাখ্যান করে জনগণের কল্যাণে বাজেট প্রণয়নের দাবি জানান।

এইউএ/এনডিএস/এমকেএইচ

টাইমলাইন