অগ্নিনির্বাপকের দাম কমবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ১৩ জুন ২০১৯

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বেশ কয়েক জায়গায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বজ্রপাতেও প্রতি বছর দেশে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। এসব মোকাবিলায় নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিতে সবার ক্ষেত্রে রেয়াতি সুবিধা প্রদান এবং লাইটিং অ্যারেস্টারের (বজ্রবারক) ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে এসব পণ্যের।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত বাজেটে এ প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শুধু মূসক নিবন্ধিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে রেয়াতি হারে আমদানির সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য সব প্রতিষ্ঠানকে রেয়াতি হারে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানির সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। এ কারণে মূসক নিবন্ধিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মূসক নিবন্ধিত উৎপাদানকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মূসক নিবন্ধিত সব সেবা প্রদানকারী যেমন – হোটেল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানকেও এ সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি। তাছাড়া অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি ও উপকরণের তালিকায় আরও কয়েকটি প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও উপকরণ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করছি।

বজ্রবারকের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, বজ্রপাত দেশে এখন একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকারে দেখা দিয়েছে। বজ্রপাতের আঘাতে প্রতিবছর অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে প্রতিরক্ষার জন্য লাইটিং অ্যারেস্টারের (বজ্রবারক) ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন হয়। এটি দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। বরাবরের মতো বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

শুরুতে দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। কিন্তু বিকেল ৪টার পর অসুস্থ অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন সম্ভবপর না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাকি অংশ সংসদে উপস্থাপন করেন।

বেলা ৪টা ৪১ মিনিটে ‘প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপিত হলো’ মর্মে ঘোষণা দেন স্পিকার।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

এর আগে মন্ত্রিসভা ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেয়। বাজেট ঘোষণার আগে দুপুর ১টার একটু পর জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভা এ অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর মূল বাজেটের আকার দাঁড়ায় চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় করতে না পারা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় চার লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি।

পিডি/জেএইচ/পিআর

টাইমলাইন